OMG! স্বামীকে টুকরো করে ড্রামে ভোড়ে সিমেন্টের কবর, প্রতিবেশীর সঙ্গে স্ত্রী গেলেন হানিমুনে

একটি প্রেমের গল্প যা সুখের স্বপ্ন দিয়ে শুরু হয়েছিল, সেটি এখন রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের কালো ছায়ায় মুখ থুবড়ে পড়েছে। মুসকান নামে এক তরুণী তার স্বামী সৌরভকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল, কিন্তু সেই ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পরিকল্পনায় রূপ নেয়। ঘরের ভেতরে ছুরির আঘাতে রক্ত ঝরে, মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে কেটে প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করা হয়। এই ভয়ঙ্কর অপরাধের রহস্য বেশিদিন গোপন থাকেনি। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে এমন এক সত্য, যা পুরো মিরাটকে শিহরিত করে তুলেছে।
প্রেমের শুরু
সৌরভ এবং মুসকানের প্রেমের গল্প শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে। দুজনে প্রেমে পড়েন এবং ২০১৬ সালে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের জীবনে সুখের ছায়া ছিল, এমনকি তাদের একটি ফুটফুটে মেয়েও জন্ম নেয়, যে এখন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। সৌরভ মার্চেন্ট নেভিতে অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর কাজের স্বভাবের কারণে তিনি দীর্ঘদিন সমুদ্রে থাকতেন। এদিকে মুসকান তার মেয়েকে নিয়ে মিরাটে একটি ভাড়া বাড়িতে একা থাকতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে।
২০১৯ সালে মুসকানের জীবনে প্রবেশ করে সাহিল, যিনি একই এলাকায় বাস করতেন। প্রথমে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠলেও, ধীরে ধীরে তা বিপজ্জনক প্রেমে রূপ নেয়। সৌরভের অনুপস্থিতিতে সাহিল মুসকানের বাড়িতে নিয়মিত আসতে শুরু করেন এবং তাদের সম্পর্ক গভীর হয়।
মৃত্যুর পরিকল্পনা
মুসকানের জন্মদিন ছিল ২৫ ফেব্রুয়ারি। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে তুলতে সে প্রস্তুতি নিচ্ছিল, কিন্তু তার মনে আরও একটি কালো পরিকল্পনা ঘুরছিল—সৌরভের হত্যা। সৌরভ লন্ডন থেকে মিরাটে ফিরে আসেন, জানতেন না যে এটিই তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা হবে। মুসকান ও সাহিল মিলে একটি ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র রচনা করেন। ৪ মার্চ রাতে, সৌরভ ঘুমোতে গেলে মুসকানের ইশারায় সাহিল তাঁর উপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সৌরভ প্রাণপণে লড়াই করার চেষ্টা করেন, কিন্তু মুসকান তাঁকে বাঁচানোর কোনো উদ্যোগ নেননি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সৌরভের শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়।
অপরাধ লুকানোর চেষ্টা
হত্যার পর মুসকান প্রতিবেশীদের বলেন যে তিনি ও সৌরভ হিমাচল ভ্রমণে যাচ্ছেন। ঘরে তালা দিয়ে তিনি সবাইকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। এরপর মুসকান ও সাহিল একটি প্লাস্টিকের ড্রাম কিনে আনেন। সৌরভের দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে সেই ড্রামে ভরে সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে দেওয়া হয়, যাতে কেউ সন্দেহ না করে। হত্যার পর তারা দুজনে মানালিতে তিন দিন কাটান, যেখানে তারা নাকি তাদের ‘মধুচন্দ্রিমা’ উদযাপন করেন। মুসকান সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করে সবকিছু স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করেন।
রহস্যের উন্মোচন
মুসকান ভেবেছিলেন তার অপরাধ গোপন থাকবে, কিন্তু একটি ভুল সব বের করে দেয়। তিনি পুরো ঘটনা তার মাকে খুলে বলেন, সম্ভবত ভেবেছিলেন মা তাকে বাঁচাবেন। কিন্তু মা পুলিশকে খবর দেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় মুসকান প্রথমে মিথ্যা বলার চেষ্টা করেন, কিন্তু সাহিল ভেঙে পড়ে সব স্বীকার করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ড্রামটি খোলার চেষ্টা করে, কিন্তু শক্ত সিমেন্টের কারণে দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টাতেও তা সম্ভব হয়নি। পরে ড্রামটি কেটে মৃতদেহ বের করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
পুলিশের বক্তব্য
মিরাটের এসপি সিটি আয়ুশ বিক্রম সিং জানিয়েছেন, “সৌরভ রাজপুত ৪ মার্চ মিরাটে ফিরেছিলেন। সেই রাতেই তাঁকে হত্যা করা হয়। তাঁর স্ত্রী মুসকান ও প্রেমিক সাহিল এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। আমরা দুজনকেই গ্রেফতার করেছি এবং তাদের বিরুদ্ধে খুন ও ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
এই ঘটনা মিরাটের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও শোকের সৃষ্টি করেছে। একটি প্রেমের গল্প যা সুখ দিয়ে শুরু হয়েছিল, তা এখন হত্যা ও বিশ্বাসঘাতকতার কালিমায় রঞ্জিত হয়ে উঠেছে।