নাগপুরে সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনায় মহিলা পুলিশ কর্মীর উপর হামলা, অভিযোগ উঠেছে শ্লীলতাহানির

গত সপ্তাহে নাগপুরে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনায় এক কর্তব্যরত মহিলা পুলিশ কর্মীর উপর হামলা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। গণেশপেঠ থানায় দায়ের করা একটি এফআইআরে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
এফআইআরের বিবরণ অনুযায়ী, হিংসার সময় উপস্থিত এক দাঙ্গাকারী ওই মহিলা পুলিশ কর্মীর ইউনিফর্ম ধরে টানাটানি করে এবং তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করার চেষ্টা করে। এছাড়াও, দাঙ্গাকারীদের একটি দল এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির লক্ষ্যে উস্কানিমূলক স্লোগান দেয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় মোট ৫১ জনের নাম এফআইআরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কীভাবে ঘটল হামলা?
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে যখন ওই মহিলা পুলিশ কর্মী দ্রুত নিয়ন্ত্রণ পুলিশ (আরসিপি) দলের সদস্য হিসেবে হিংসাস্থলে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তখনই এক দুষ্কৃতী তার ইউনিফর্ম ধরে টান দেয় এবং তার শরীরে অশালীনভাবে স্পর্শ করার চেষ্টা করে। ঘটনার পরপরই ওই পুলিশ কর্মী তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানান।
শুধু ওই মহিলা পুলিশ কর্মীই নন, এফআইআরের তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য মহিলা পুলিশ সদস্যদেরও দুর্ব্যবহার ও হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। দাঙ্গাকারীদের একাংশ অশ্লীল ইঙ্গিতপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি করে এবং অশালীন মন্তব্য ছুড়ে দেয়, যা পুলিশের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্ন তোলে।
হিংসা দমন ও তদন্ত শুরু
গত সপ্তাহে নাগপুরে সাম্প্রদায়িক হিংসার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বড় আকারে মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু এই ঘটনার পরে পুলিশ কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এফআইআর দায়েরের পর তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “এই ধরনের আচরণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি শুধু পুলিশের উপর হামলা নয়, বরং আইন-শৃঙ্খলার উপরও চ্যালেঞ্জ।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
এলাকাবাসীরা এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “পুলিশ আমাদের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে। তাদের সঙ্গে এমন আচরণ খুবই দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য।”
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলমান এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পর পুরো ঘটনা আরও স্পষ্ট হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে পুনরায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।