কেষ্টগরে ১ ড্রাম তাজা বোমা উদ্ধার, ২৬-এর নির্বাচনের আগে চাঞ্চল্য, তদন্তে পুলিশ

কেষ্টর গড়খ্যাত বীরভূমে বোমা উদ্ধারের ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন করে যেভাবে বোমা ও বোমা তৈরির মশলা উদ্ধার হচ্ছে, তা জেলায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো শাসকদলের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করতেও ছাড়ছে না। এরই মধ্যে খয়রাশোল ব্লকের কাঁকড়তলা থানা এলাকায় ১০টি তাজা বোমা ও প্রায় এক কিলো বোমা তৈরির মশলা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কাঁকড়তলায় বোমা উদ্ধার

কাঁকড়তলা থানার জামালপুর গ্রামে একটি ইটভাটার পাশে পুকুরপাড়ের ঝোপ থেকে প্লাস্টিকের বালতিতে মজুত করা ১০টি তাজা বোমা এবং প্রায় এক কিলো বোমা তৈরির মশলা উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই এলাকায় কিছুদিন আগে অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে প্রচুর বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তারপর থেকে পুলিশ নিয়মিত তল্লাশি চালাচ্ছিল। এই অভিযানে কাঁকড়তলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং সিআইডি’র বোম ডিসপোজাল টিমকে খবর দেওয়া হয়। টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমা ও মশলা নিষ্ক্রিয় করে। পুলিশ এখন তদন্ত করছে, কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরক মজুত করেছিল।

দুবরাজপুরে ৬০টি বোমা

এর আগে, সপ্তাহ দুয়েক আগে বীরভূমের দুবরাজপুর থানার যশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ধ-গ্রামে শাল নদীর ধারে চাষের জমির আলের পাশ থেকে দুটি জেরিকেন ভর্তি ৬০টি তাজা বোমা উদ্ধার হয়েছিল। দুবরাজপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করার জন্য সিআইডি’র বোম ডিসপোজাল টিমের সাহায্য নিয়েছিল। এই ঘটনাও এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই বোমাগুলো নির্জন স্থানে মজুত করা হয়েছিল সম্ভবত কোনও অশুভ উদ্দেশ্যে।

রাজনৈতিক তরজা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বীরভূমে ঘন ঘন বোমা উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। বিরোধী দলগুলো এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার অভিযোগ তুলছে। তাঁদের দাবি, এই ধরনের ঘটনা নির্বাচনের আগে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তবে শাসকদল এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

পুলিশের তৎপরতা

কাঁকড়তলা ও দুবরাজপুরে বোমা উদ্ধারের পর পুলিশ তদন্তে নেমেছে। কাঁকড়তলা থানার এক আধিকারিক জানান, “আমরা এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছি। বোমা মজুতের পিছনে কারা জড়িত এবং তাদের উদ্দেশ্য কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” দুবরাজপুরের ঘটনার তদন্তও চলছে। পুলিশ সন্দেহ করছে, এই বিস্ফোরকগুলো নির্বাচনী অশান্তির জন্য মজুত করা হতে পারে।

এলাকায় আতঙ্ক

ঘন ঘন বোমা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। জামালপুরের এক বাসিন্দা বলেন, “কিছুদিন আগে এখানে বোমা ফাটার ঘটনা ঘটেছিল। এখন আবার বোমা পাওয়া গেল। আমরা ভয়ে আছি।” দুবরাজপুরের বাসিন্দারাও একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

বীরভূমে বোমা উদ্ধারের এই ঘটনাগুলো আগামী দিনে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। পুলিশের তদন্তে কী উঠে আসে, সেদিকে নজর রয়েছে সকলের।