“ইউটিউব দেখে সোনা পাচারের কৌশল শিখেছি”- গোয়েন্দাদের জানালেন অভিনেত্রী রান্যা রাও

সোনা পাচার মামলায় কন্নড় অভিনেত্রী রান্যা রাও আবারও বয়ান বদলেছেন। গত ৩ মার্চ বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১২ কোটি টাকার সোনা-সহ গ্রেফতার হন তিনি। গ্রেপ্তারির পর থেকে তাঁর বয়ান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এবার গোয়েন্দাদের কাছে নতুন তথ্য দিয়েছেন অভিনেত্রী।

গ্রেপ্তারির পর রান্যা রাও প্রথমে দাবি করেছিলেন যে, অতীতে দু’বার একইভাবে দুবাই থেকে সোনা পাচার করেছেন। কিন্তু এখন তিনি গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, গত ৩ মার্চই প্রথমবার সোনা পাচারের চেষ্টা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, কীভাবে সোনা পাচারের কৌশল শিখেছেন, তা-ও গোয়েন্দাদের কাছে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।

কীভাবে শিখলেন সোনা পাচার?
রান্যা রাও গোয়েন্দাদের জানান, ইউটিউবের ভিডিও দেখে সোনা পাচারের কৌশল শিখেছেন। তিনি বলেন, ‘সোনার বারগুলি দু’টি প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়া ছিল। বিমানবন্দরের বাথরুমে গিয়ে সেগুলো নিজের শরীরের সঙ্গে বেঁধে নিয়েছি। এমনকি জুতোর মধ্যেও সোনার বার লুকিয়ে ফেলি।’

কে দিয়েছিলেন নির্দেশ?
রান্যা রাও গোয়েন্দাদের কাছে জানান, গত ১ মার্চ একটি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন পান। সপ্তাহ দুয়েক ধরে অজানা নম্বর থেকে ফোন আসছিল। তাঁকে দুবাই বিমানবন্দরের তিন নম্বর টার্মিনাল গেটে যেতে বলা হয়েছিল। সেখান থেকে সোনা সংগ্রহ করে বেঙ্গালুরুতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে কে ফোন করে সোনা পাচারের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা তিনি জানেন না বলেই পুলিশকে জানিয়েছেন।

সোনা হস্তান্তরকারীর বর্ণনা
অভিনেত্রী গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে যিনি সোনা হস্তান্তর করেছিলেন, তাঁর উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট। রান্যা দাবি করেছেন, অতীতে এই ব্যক্তিকে কখনও দেখেননি।

তদন্তের অগ্রগতি
বর্তমানে আদালতের নির্দেশে ডিআরআই-এর হেফাজতে রয়েছেন রান্যা রাও। গোয়েন্দারা তাঁকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এই সোনা পাচার চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তাদের সঙ্গে অভিনেত্রীর কী ধরনের যোগাযোগ ছিল— এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

মামলার পটভূমি
গত ৩ মার্চ বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১২ কোটি টাকার সোনা-সহ গ্রেফতার হন রান্যা রাও। তাঁর গ্রেফতারের পর থেকেই এই মামলা নিয়ে নানা জটিল প্রশ্ন উঠেছে। অভিনেত্রীর বয়ান বারবার বদলানোয় তদন্তকারীদের কাজ আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

আগামী পদক্ষেপ
গোয়েন্দারা এখন রান্যা রাও-এর দেওয়া তথ্য যাচাই করছেন। এই মামলায় আরও কারা জড়িত থাকতে পারেন, তা খতিয়ে দেখছেন তারা। এদিকে, আদালতের নির্দেশে ডিআরআই-এর হেফাজতে থাকা রান্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।

এই মামলায় রান্যা রাও-এর ভূমিকা এবং সোনা পাচার চক্রের বিস্তারিত তদন্ত এখনও চলছে। গোয়েন্দাদের আশা, শীঘ্রই এই মামলার জট খুলবে এবং আসল সত্য সামনে আসবে।