“আমেরিকানরা যেন ভুল না করে…!” -ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধে কে জিতবে? জানালেন মার্ক কার্নি

কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরপরই মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধে জয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রোববার সন্ধ্যায় লিবারেল পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বিজয় ভাষণে কার্নি বলেন, “আমেরিকানরা যেন ভুল না করে। হকির মতোই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধেও কানাডা জিতবে।”

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্যে পরিণত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এর জবাবে কার্নি ঘোষণা করেছেন, “মার্কিন আমদানির ওপর কানাডার পাল্টা শুল্ক বহাল থাকবে, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র আমাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।” তিনি আরও বলেন, “ট্রাম্প কানাডার শ্রমিক, পরিবার ও ব্যবসা-বাণিজ্যকে আক্রমণ করছেন। আমরা তাকে সফল হতে দেব না।” তার এই বক্তব্যের পর সমর্থকদের ভিড় থেকে তীব্র প্রতিধ্বনি ওঠে।

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে কানাডার অর্থনীতি মন্দার ঝুঁকিতে পড়েছে। এ প্রসঙ্গে কার্নি বলেন, “আমরা একটি অন্ধকার সময় পার করছি, কিন্তু আমরা একসঙ্গে থেকে এই সংকট কাটিয়ে উঠব।” তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন, যা ট্রাম্পের অভিযোগের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল।

নতুন যাত্রার সূচনা

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে কার্নির। এরপর তিনি লিবারেল পার্টির নেতৃত্বে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেবেন, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ৫৯ বছর বয়সী কার্নি এর আগে কখনো রাজনৈতিক পদে নির্বাচিত হননি। তিনি ব্যাংক অব কানাডা এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক গভর্নর হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন।

লিবারেল পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচন গত জানুয়ারিতে শুরু হয়, যখন প্রায় এক দশক ক্ষমতায় থাকা জাস্টিন ট্রুডো ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা হ্রাস ও দলের অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ট্রুডোর আমলে আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে জনগণের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল।

নির্বাচনে কার্নির জয়

রোববার সন্ধ্যায় রাজধানী অটোয়ায় লিবারেল পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রথম ভোটেই কার্নি ৮৫.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন। প্রায় দেড় হাজার সমর্থকের উপস্থিতিতে ফলাফল ঘোষণার সময় চারদিকে উল্লাসধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই নির্বাচনে ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন।

জয়ের পর কার্নি সংসদে সংখ্যালঘু সরকার গঠন করবেন। তার সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে—হয় তিনি নিজে দ্রুত একটি সাধারণ নির্বাচন ডাকবেন, অথবা বিরোধী দলগুলোর আস্থা ভোটের মাধ্যমে তাকে চলতি মাসের মধ্যেই নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে।

ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ বানানোর হুমকির পর থেকে দেশটিতে জাতীয়তাবাদী চেতনা জোরালো হয়েছে। কার্নি তার অর্থনৈতিক দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার জোরে এই সংকট মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

সূত্র: বিবিসি