বাংলায় কি তবে পদ্ম-ঝড়? এগজিট পোলের ঝাপটা এবার ওপার বাংলার সংসদে!

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা আগামী ৪ মে। তার আগেই বুথফেরত সমীক্ষা বা এগজিট পোলের ফলাফল নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে ওপার বাংলায়। পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বিজেপির বসার সম্ভাবনা তৈরি হতেই উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে। পদ্ম শিবিরের সম্ভাব্য জয় নিয়ে সেখানে রীতিমতো জরুরি আলোচনা ও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সে দেশের সাংসদ আখতার হোসেন।

বাংলাদেশের সংসদে উদ্বেগের সুর: ২৯ এপ্রিল শেষ দফার ভোট মিটতেই ‘টুডেজ চাণক্য’র মতো নামী সমীক্ষক সংস্থাগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, বাংলায় এবার বিজেপি ১৯২টির বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসতে পারে। আর এই খবর জানাজানি হতেই বাংলাদেশের রংপুর কেন্দ্রের সাংসদ আখতার হোসেন সে দেশের সংসদে দাঁড়িয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন করলে তারা সব বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠাতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশে এক ভয়াবহ শরণার্থী সঙ্কট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

অনুপ্রবেশ ইস্যু ও রাজনৈতিক চাপ: উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে বিজেপির প্রচারের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ছিল ‘অনুপ্রবেশ’। গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশছাড়া করা হবে। বাংলাদেশের সাংসদের এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিজেপিও। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে ওপার বাংলার নেতার বক্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে দাবি করেছেন, “বাংলাদেশের সাংসদ নিজেই স্বীকার করছেন যে বিজেপির জয় অনুপ্রবেশ বন্ধ করবে।”

ভারত-বিরোধী গোষ্ঠীর তৎপরতা: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওপার বাংলার ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি’র মতো কট্টরপন্থী দলগুলো বরাবরই ভারত-বিরোধী অবস্থান নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে জামাত-ই-ইসলামির মতো গোষ্ঠীর সঙ্গে জোটবদ্ধ এই শক্তিগুলো পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

বাংলার মসনদে শেষ পর্যন্ত কে বসবেন, তা জানা যাবে ৪ মে। তবে ভোটের ফল প্রকাশের আগেই সীমান্তের ওপারে তৈরি হওয়া এই টানটান উত্তেজনা দুই দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল।