BigNews: মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিকের ফলপ্রকাশ কবে? জেনেনিন ফলাফলের বড় আপডেট

পশ্চিমবঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে পুরোদমে। এর মধ্যেই পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে প্রশ্ন ঘুরছে—ফল প্রকাশ হবে কবে? এই প্রশ্নের জবাবে বড় তথ্য দিলেন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। বীরভূমের সিউড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ২০২৫ সালের উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশিত হতে পারে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে।
ফল প্রকাশের সময়সীমা
চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, “মাধ্যমিকের রেজাল্ট বের হওয়ার সাত দিনের মধ্যেই উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশ করা হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হচ্ছে। পরীক্ষার নম্বর জমা দেওয়া থেকে শুরু করে ফল তৈরি—সবই অনলাইনে হওয়ায় সময় অনেক কম লাগছে। এছাড়া এই পদ্ধতির ফলে গোটা প্রক্রিয়াটি নির্ভুলও হচ্ছে।” তিনি জানান, এই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে ফল প্রকাশে দ্রুততা ও স্বচ্ছতা দুটোই নিশ্চিত হচ্ছে।
ট্যাবের টাকা নিয়ে বিতর্ক: সত্যি না মিথ্যা?
এবারের পরীক্ষায় অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ে একটি গুঞ্জন ছড়িয়েছে। অনেকে দাবি করছেন, কিছু ছাত্র-ছাত্রী সরকারের দেওয়া ট্যাবলেটের টাকা নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। এই অভিযোগের জবাবে চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, “এটা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য। আমরা এই অভিযোগ শুনছি, কিন্তু বীরভূমের ক্ষেত্রে এটা সত্য নয়। এখানে ১৭,৪৭২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৬,৬৮৯ জন পরীক্ষা দিচ্ছেন, অর্থাৎ ৯৫.৫ শতাংশ উপস্থিত। গত তিন বছরের তুলনায় এবারের উপস্থিতির হার অনেক ভালো। এই ধরনের তথ্য কালিমালিপ্ত করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে।”
কেন অনুপস্থিত কিছু পরীক্ষার্থী?
অনেক পরীক্ষার্থী কেন এবার পরীক্ষায় বসলেন না, সেই প্রশ্নের উত্তরে সংসদ সভাপতি বলেন, “অনেকে টেস্ট পরীক্ষায় ভালো ফল না করতে পারায় বা শারীরিক কারণে পরীক্ষা দিতে পারেনি। এটা অস্বাভাবিক নয়।” তিনি আরও জানান, যারা এবার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তারা আগামী বছর ‘কন্টিনিউইং ক্যান্ডিডেট’ হিসেবে পরীক্ষায় বসতে পারবেন।
পরীক্ষার চিত্র
পশ্চিমবঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে ৩ মার্চ থেকে এবং চলবে ১৮ মার্চ পর্যন্ত। প্রায় ৫ লক্ষ ৯ হাজার পরীক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ছাত্রীদের সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় ৪৭,৬৭১ জন বেশি। পরীক্ষা প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হচ্ছে।
চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের এই ঘোষণা পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে স্বস্তি এনে দিয়েছে। ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভুল ফল প্রকাশের প্রতিশ্রুতি শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি ইতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তবে ট্যাবের টাকা নিয়ে চলা বিতর্ক এখনও আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।