“AI-ও আপনার চাকরি খেতে পারবে না যদি ….!”- কি জানালেন মাইক্রোসফট কর্তা?

India Today Conclave 2025-এর মঞ্চে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। ‘মানুষ বনাম যন্ত্র’ শীর্ষক সেশনে মাইক্রোসফট ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট পুনীত চন্দোক এবং ডেলয়েট গ্লোবাল এআই প্রোগ্রামের প্রধান নীতিন মিত্তাল AI-এর ভবিষ্যৎ এবং ভারতের ভূমিকা নিয়ে গভীরভাবে আলোকপাত করেন। এই আলোচনায় ভারতের নিজস্ব AI মডেল তৈরি থেকে শুরু করে চাকরির ভবিষ্যৎ পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।
ভারতের নিজস্ব LLM কবে?
আলোচনায় একটি বড় প্রশ্ন ছিল—ভারত কবে নিজস্ব লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) তৈরি করবে, যেমন চীনের ডিপসিক? পুনীত চন্দোক বলেন, “ভারতের শক্তি কম খরচে উন্নত পণ্য উৎপাদনে। এটিই আমাদের সাফল্যের মূল মন্ত্র।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতের উচিত AI-এর ব্যবহারে মনোযোগ দেওয়া, শুধু তৈরির দিকে নয়।
নীতিন মিত্তল এই বিষয়ে একমত হয়ে বলেন, “ভারতের নিজস্ব AI মডেল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। AI এখন বুদ্ধিমত্তা উৎপাদনের একটি পণ্যে পরিণত হয়েছে। যদি আমাদের নিজস্ব মডেল না থাকে, তবে আমাদের অন্য দেশের উপর নির্ভর করতে হবে।” তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “LLM তৈরি করা কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ। ভারতেরও এতে সময় লাগবে।” উভয় বিশেষজ্ঞই ছোট ভাষার মডেল (SLM)-এর দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
AI কীভাবে কাজকে সহজ করছে?
AI এজেন্টদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নিয়ে নীতিন মিত্তল বলেন, “আগে আমরা AI-কে শুধু প্রশ্ন করতাম আর উত্তর পেতাম। কিন্তু এখন AI কেবল তথ্য দেওয়ার বাইরে গিয়ে আমাদের জন্য কাজও করে। এটি এখন অনেক বেশি কার্যকর।” তিনি উদাহরণ দিয়ে বোঝান, AI এজেন্টরা এখন কাজের দক্ষতা বাড়িয়ে তুলছে।
পুনীত চন্দোক এই প্রসঙ্গে যোগ করেন, “AI আমার অর্ধেকের বেশি ইমেল টাইপ করার কাজ কমিয়ে দিয়েছে। গত এক বছরে AI দিয়ে যত কোড লেখা হয়েছে, তা আগের পাঁচ বছরের তুলনায় বেশি। অনেক কোম্পানি জেনারেটিভ AI (Gen AI) ব্যবহার করে কোড তৈরি করছে।”
AI হ্যালুসিনেশন নিয়ে কী বললেন?
AI-এর ভুল তথ্য বা ‘হ্যালুসিনেশন’ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটি এখনও শেখার পর্যায়ে রয়েছে। নীতিন মিত্তল বলেন, “মানুষও ভুল করে, AI-ও করতে পারে। আমরা যত বেশি তথ্য ও সময় দেব, ততই এটি নির্ভুল হবে।” পুনীত চন্দোক একমত হয়ে বলেন, “এটি একটি প্রক্রিয়া, যা সময়ের সঙ্গে উন্নত হবে।”
“AI চাকরি কেড়ে নেবে না”
চাকরি হারানোর আশঙ্কা নিয়ে পুনীত চন্দোক স্পষ্ট করে বলেন, “AI আপনার চাকরি কেড়ে নেবে না। কিন্তু যে AI ব্যবহার করতে জানে, সে আপনার জায়গা নিতে পারে। তাই নতুন প্রযুক্তি শেখা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে AI এজেন্টদের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বলেন, এটি কাজকে আরও সহজ ও দক্ষ করে তুলছে।
নীতিন মিত্তলও এই মত সমর্থন করে বলেন, “AI-এর লক্ষ্য কাজকে সহজ করা, মানুষকে প্রতিস্থাপন করা নয়। ভারতের উচিত এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজের অবস্থান মজবুত করা।”
India Today Conclave 2025-এর এই আলোচনা ভারতে AI-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন দিশা দেখিয়েছে। পুনীত চন্দোক ও নীতিন মিত্তলের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ভারতের নিজস্ব AI মডেল তৈরির পাশাপাশি এর ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করা জরুরি। AI-কে শুধু প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগী হিসেবে দেখার এই দৃষ্টিভঙ্গি ভারতের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পথে একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে।