সোনা পাচার কাণ্ডে ধরা পড়লেন সৎ মেয়ে, “… ক্যারিয়ারে কালো দাগ”- বললেন বাবা IPS অফিসার

চাঞ্চল্যকর সোনা পাচার কাণ্ডে গ্রেফতার হলেন দক্ষিণী অভিনেত্রী রানিয়া রাও। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর নাম ব্যবহার করেই বিমানবন্দর দিয়ে অনায়াসে সোনা পাচার করা হচ্ছিল।

সৎ মেয়ের গ্রেফতারিতে মর্মাহত কর্ণাটক পুলিশের ডিজিপি রামচন্দ্র রাও। তিনি জানান, “আমার ক্যারিয়ারে একটাও কালো দাগ নেই। আইন আইনের পথেই চলবে।”

গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই) জানায়, গত এক বছরে রানিয়া ৩০ বার দুবাই সফর করেছেন। তাঁর এত ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণ সন্দেহজনক হয়ে ওঠে।

গ্রেফতারের সময় বেঙ্গালুরু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিনা চেকিংয়ে বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করছিলেন রানিয়া। ডিআরআই আগেই খবর পেয়ে তাঁকে আটক করে। সোনাগুলি তাঁর পোশাকে ও শরীরে লুকানো ছিল।

রানিয়ার কোনও ব্যবসা বা পরিবার নেই দুবাইতে। তিনি প্রায়ই দুবাই যেতেন স্বামীর সঙ্গে, যা সন্দেহ বাড়ায়।🔹 এর আগেও পুলিশ এসকর্ট নিয়ে বাধাহীনভাবে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়েছেন।

তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, রানিয়া একাই এই সোনা পাচারের সঙ্গে জড়িত, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনও চক্র আছে।

রানিয়ার দাবি: ব্ল্যাকমেইল করে পাচার করানো হয়েছে!

গ্রেফতারির পর রানিয়া দাবি করেছেন, তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করে সোনা পাচারে বাধ্য করা হয়েছে। তবে তদন্তকারীরা এখনও নিশ্চিত নন, এটি সত্যি নাকি একটি ধোঁকা।

এই মামলায় ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট) তদন্তে নামতে পারে, কারণ পাচারের অর্থ কোথা থেকে আসছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে। রানিয়ার বেঙ্গালুরুর বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে গোয়েন্দারা।

রানিয়া দক্ষিণী সিনেমায় বেশ পরিচিত নাম। ‘মাণিক্য’ (২০১৪)-তে সুপারস্টার সুদীপের বিপরীতে অভিনয় করেছেন।🎬 ‘ওয়াঘা’ (২০১৬) ও ‘পটাকি’ (২০১৭)-তেও তাঁকে দেখা গেছে।

কর্ণাটকের উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসারের সৎ মেয়ে এই পাচার কাণ্ডে জড়ানোয় বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। রামচন্দ্র রাও জানিয়েছেন, তিনি তদন্তে হস্তক্ষেপ করবেন না।

তবে প্রশ্ন উঠছে, রানিয়া কি সত্যিই ব্ল্যাকমেইলের শিকার, নাকি তিনি একটি বৃহৎ সোনা পাচার চক্রের অন্যতম মুখ? তদন্তের রিপোর্টেই মিলবে উত্তর।