“জন্মদিনে ছোট পোশাকে হাজির হন আমিশা”- তারপর নায়িকাকে যা করতে বাধ্য করেন সঞ্জয়?

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আমিশা প্যাটেল এই ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছেন। তার অভিনয় দক্ষতা ও সৌন্দর্য দিয়ে দর্শকদের মন জয় করলেও, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি আজও ‘সিঙ্গেল’। ৫০-র কাছাকাছি বয়সে পৌঁছেও বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি তিনি। এক সময় পরিচালক বিক্রম ভট্টের সঙ্গে তার প্রেমের গুঞ্জন শোনা গেলেও, তার জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায় জুড়ে ছিলেন অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত।
আমিশা ও সঞ্জয় এক সময় একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তবে, তাদের এই বন্ধুত্বে মনোমালিন্যের কারণে ফাটল ধরে। সঞ্জয় আমিশার প্রতি খুবই স্নেহশীল ও স্পর্শকাতর ছিলেন। এমনকি আমিশার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতেন তিনি। আমিশা নিজেই জানিয়েছেন, সঞ্জয় তার জন্য একজন পরিবারের মতো ছিলেন।
জন্মদিনের ঘটনা: পোশাক নিয়ে সঞ্জয়ের আপত্তি
একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে আমিশা বলেন, তার জন্মদিনে সঞ্জয়ের বাড়িতে একটি পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে তিনি ছোট পোশাকে উপস্থিত হন। কিন্তু সঞ্জয়ের পছন্দ না হওয়ায় তিনি আমিশাকে সেই পোশাক বদলে সালোয়ার কামিজ পরতে বাধ্য করেন। আমিশা বলেন, “সঞ্জয় আমাকে কখনোই ছোট পোশাক পরতে দিতেন না। আমার প্রতি তার মনোভাব ছিল খুবই রক্ষণশীল। আমাকে সব সময় আগলে রাখতে চাইতেন।”
সঞ্জয়ের স্বপ্ন: আমিশার বিয়ে
আমিশার কথায়, সঞ্জয় তাকে সব সময় ছোট বোনের মতো দেখতেন। তিনি বলতেন, “আমি তোর বিয়ে দেব।” এমনকি সঞ্জয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে আমিশার বিয়েতে তিনি কন্যাদান করবেন। কিন্তু আমিশা হাসতে হাসতে বলেন, “২০ বছর কেটে গেছে, কিন্তু সঞ্জয় এখনো আমার জন্য একটা ছেলে খুঁজে পায়নি।”
সঞ্জয়ের মতে, বলিউডের এই চাকচিক্যময় জগৎ আমিশার জন্য উপযুক্ত নয়। আমিশার সারল্য ও নিষ্পাপতা নিয়ে তিনি সব সময় চিন্তিত থাকতেন। আমিশা বলেন, “সঞ্জয় আমার পরিবারের মতো ছিল। আমার বিষয়ে ভীষণ স্পর্শকাতর ছিল সে।”
বন্ধুত্বে ফাটল
তবে, সঞ্জয়ের এই অতিরিক্ত রক্ষণশীল মনোভাব ও অধিকারবোধই আমিশার সঙ্গে তার সম্পর্কে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমিশার জীবনে হস্তক্ষেপ এবং তার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলার চেষ্টা তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে। ফলে এক সময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বে ছেদ পড়ে।
আমিশার বর্তমান
আজ আমিশা প্যাটেল তার ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে স্বাধীনভাবে এগিয়ে চলেছেন। তিনি বলিউডে নিজের একটি বিশেষ জায়গা তৈরি করেছেন। সঞ্জয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক এখন অতীতের স্মৃতি হয়ে থাকলেও, তিনি সেই দিনগুলোকে এখনো মনে রেখেছেন। আমিশার জীবনের এই গল্প তার ভক্তদের কাছে একটি আকর্ষণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।