বাজল সানাই, চারহাত হলো এক, থানার মধ্যেই নিজ হাতে সিভিকের বিয়ে দিলেন আইসি

চাপড়া থানায় এক অভিনব দৃশ্য দেখা গেল। থানার চত্বরেই সাজানো হলো বিয়ের মণ্ডপ। ফুল, আলোকসজ্জা আর সানাইয়ের সুরে মুখরিত হয়ে উঠল থানা প্রাঙ্গণ। এই বিয়ের আসরে বর হলেন রথীন হালদার, আর কনে মামনি ঘোষ। থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (আইসি) অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায় নিজ হাতে এই বিয়ের আয়োজন করেন এবং বর-কনে কে আশীর্বাদ করেন।
মামনি ঘোষ চার বছর আগে ক্যান্সারে স্বামীকে হারান। তারপর থেকে তিনি একাই ছেলেকে নিয়ে সংসার চালাচ্ছিলেন। সংসারের চাপ ও নানা প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এই অসহায় মহিলার পাশে দাঁড়ালেন চাপড়া থানার পুলিশ। আইসি অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে মামনির বিয়ে ঠিক হয় রথীন হালদারের সঙ্গে। রথীন পেশায় একজন সিভিক ভলান্টিয়র এবং তাঁর বাড়ি কড়ুইগাছি গ্রামে।
থানা চত্বরে আয়োজিত এই বিয়েতে ফুল, আলোকসজ্জা এবং সানাইয়ের সুরে মুখরিত পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত হয়ে এই অনুষ্ঠানে শামিল হন। বিয়ের পর কবজি ডুবিয়ে খাওয়া-দাওয়া এবং আনন্দ-উৎসবেও অংশ নেন সবাই।
পুলিশের এই উদ্যোগ এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়ের এই মানবিক উদ্যোগের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান স্থানীয়রা। অনেকেই বলেছেন, পুলিশের কাজ শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা নয়, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোও। মামনির পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশ যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।
নতুন বর রথীন হালদারও আইসি অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আইসি স্যার নিজ হাতে আমার বিয়ের আয়োজন করেছেন, এজন্য আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।”
এই ঘটনা পুলিশের মানবিক চেহারাটি সামনে এনেছে এবং সমাজে এক নতুন বার্তা দিয়েছে। পুলিশ শুধু আইনের রক্ষক নয়, তারা মানুষের বন্ধুও। চাপড়া থানার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।