ITJobs: অনিশ্চয়তা বাড়ছে একাধিক মহলে, ট্রাম্পের হুমকিতে চিন্তায় ভারতীয় আইটি শিল্প

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাত এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমপরিমাণ শুল্ক বসানোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলির ব্যবসা কতটা প্রভাবিত হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ভারতের সফটওয়্যার সংস্থাগুলির সংগঠন ন্যাসকম-এর প্রেসিডেন্ট রাজেশ নাম্বিয়ার সোমবার জানিয়েছেন,
“এটি আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় অনিশ্চিত বিষয়। আমরা জানি না শুল্ক কীভাবে কার্যকর হবে এবং আমেরিকার বাজারে এর প্রভাব কী হবে।”
মার্কিন বাজারে নির্ভরশীল ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাত
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের মোট মূল্য ২৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে প্রায় ৬০-৬২% ব্যবসা আসে মার্কিন বাজার থেকে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বদলের ফলে ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলির ব্যবসায়িক স্বার্থ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ভয় পাওয়ার কিছু নেই?
তবে, ইনফোসিসের চিফ এক্সিকিউটিভ ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সলিল পারেখ আশ্বস্ত করে বলেছেন,
“ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ মার্কিন সংস্থাগুলির জন্য ইতিবাচক হলে, ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলিও উপকৃত হবে।”
তিনি জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে ইনফোসিস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় নিয়োগ ৬০% বাড়িয়েছে, ফলে কোম্পানির এইচ-১বি ভিসার উপর নির্ভরতা কমেছে।
এইচসিএল টেকনোলজিসের চিফ এগজ়িকিউটিভ সি বিজয়কুমারও জানিয়েছেন,
“দু’দশক আগে এইচ-১বি ভিসা যতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এখন আর ততটা নেই। ফলে মার্কিন নীতির পরিবর্তনের প্রভাব তেমন গুরুতর হবে না।”
আইটি খাতের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে
ন্যাসকমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প ৫.১% প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ২৮২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এটি ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ন্যাসকমের রিপোর্ট অনুযায়ী,
চলতি অর্থবছরে ১.২৬ লক্ষ নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মোট কর্মীর সংখ্যা ৫৮ লক্ষ।
আগামী বছরও নতুন নিয়োগের ধারা অব্যাহত থাকবে।
ভবিষ্যৎ কী বলছে?
ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতি ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই খাত দ্রুত অভিযোজিত হতে সক্ষম। ভারতীয় কোম্পানিগুলি যদি মার্কিন বাজারে তাদের কৌশল পুনর্গঠন করতে পারে, তবে এই সংকট থেকেও উত্তরণ সম্ভব।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প কতটা ঝুঁকির মুখে পড়বে, নাকি এই চ্যালেঞ্জকে নতুন সুযোগে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।