“জাল ভিডিওর মতো জাল ওষুধও বেরোচ্ছে “- ডাক্তারদের সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার ধনধান্য স্টেডিয়ামে চিকিৎসকদের সঙ্গে এক বৈঠকে সিনিয়র চিকিৎসক থেকে ইন্টার্ন পর্যন্ত সব স্তরের চিকিৎসকদের জন্য বেতন বৃদ্ধির বড় ঘোষণা করেছেন। এই সিদ্ধান্তকে ২০২৬ সালের আগে চিকিৎসক সমাজে হাসি ফোটানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৈঠকে মমতা ঘোষণা করেন, “ইন্টার্ন, হাউস স্টাফ, পিজিটি ও পিজিডিটি ট্রেনিদের ভাতা ১০ হাজার টাকা করে বাড়ানো হবে। সর্বস্তরের সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের বেতন বাড়বে ১৫ হাজার টাকা। ডিপ্লোমাধারী সিনিয়রদের বেতন ৬৫ হাজার থেকে বেড়ে হবে ৮০ হাজার টাকা। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট সিনিয়রদের বেতন ৭০ হাজার থেকে বেড়ে ৮৫ হাজার টাকা এবং পোস্ট ডক্টরেট সিনিয়রদের বেতন ৮৫ হাজার থেকে বেড়ে হবে ১ লক্ষ টাকা।” এর ফলে চিকিৎসকদের সব স্তরেই বেতন বৃদ্ধির একটি নতুন দিগন্ত খুলে গেল।
মেদিনীপুর স্যালাইন-কাণ্ডে সাসপেনশন প্রত্যাহার
শুধু বেতন বৃদ্ধিই নয়, মুখ্যমন্ত্রী এদিন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে স্যালাইন-কাণ্ডে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসকদের সাসপেনশন প্রত্যাহারের ঘোষণাও করেন। এই ঘটনা নিয়ে বিতর্কের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। পাশাপাশি, প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজে খেলাধুলার জন্য মাঠ তৈরির জন্য অর্থ বরাদ্দ এবং কলেজ টু কলেজ কম্পিটিশন আয়োজনের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেন তিনি। “জেলা ও ব্লকের মধ্যে মিলন ঘটাতে এই উদ্যোগ,” বলে জানান মমতা।
স্বাস্থ্য পরিষেবায় গর্বের দাবি
রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার সাফল্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে চিকিৎসকদের বড় অবদান রয়েছে। ৯ কোটি মানুষ এর সুবিধা পেয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালেও এর সুযোগ রয়েছে। আমাদের আমলে দেশের সেরা হাসপাতাল পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে। ১৩,৫০০টির বেশি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ৪০ হাজার বেড বেড়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বরে ইঞ্জেকশন প্রয়োগে বাংলা দেশে এক নম্বরে রয়েছে।
মমতা এদিন জাল ওষুধের সমস্যা নিয়েও সতর্ক করে বলেন, “জাল ভিডিওর মতো জাল ওষুধও বেরোচ্ছে। তিন মাস পরপর সব ওষুধ ও ইঞ্জেকশনের এক্সপায়ারি ডেট দেখতে হবে।” হাসপাতালের নিরাপত্তায় প্রাক্তন পুলিশকর্মীদের নিয়োগ এবং মোবাইল ভ্যান বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
টেলিমেডিসিনের সাফল্য
মুখ্যমন্ত্রী জানান, টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে রাজ্যে ৪ কোটি ৮২ লক্ষ মানুষ চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন। “এই পরিষেবা দিয়ে আমরা হাজার হাজার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি,” বলে গর্ব করেন তিনি।
আরজি কর কাণ্ডে কঠোর শাস্তির দাবি
বৈঠকে আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, “এই ঘটনায় কঠোর শাস্তি চাই।” তিনি নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং বিচারের আশ্বাস দেন।
চিকিৎসকদের মুখে হাসি
এই বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য ঘোষণাকে চিকিৎসক সমাজ স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি চিকিৎসকদের মনোবল বাড়াবে। মমতার এই ‘কল্পতরু’ রূপ যেন রাজ্যের স্বাস্থ্য খাতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করল।