“পাড়ার দোকানে নেই ধার-বাকি”-ট্যাংরাকাণ্ডে টাকার জন্য এই পদক্ষেপ? নাকি অন্য কারণ? উঠছে প্রশ্ন

ট্যাংরায় দুই গৃহবধূ এবং এক নাবালিকার খুনের ঘটনায় এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। দে পরিবারের দুই ভাই প্রসূন দে ও প্রণয় দে এবং প্রণয়ের নাবালক পুত্র বর্তমানে ই এম বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) প্রণয় এবং তাঁর ছেলেকে ছাড়া হতে পারে। তবে প্রসূনের চিকিৎসা এখনও চলবে। কিন্তু এই বিপুল চিকিৎসার খরচ কে বহন করবে? দেনায় জর্জরিত দে পরিবারের পক্ষে তা সম্ভব হবে কি? এই প্রশ্নগুলো এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দে পরিবারের উপর কয়েক কোটি টাকার দেনার বোঝা ছিল। এই আর্থিক সংকটের জেরেই তারা চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ঘুমের ওষুধ ও প্রেসারের ওষুধ মেশানো একটি লস্যি বা পায়েস খাওয়ানো হয় পরিবারের সকলকে। এতে নাবালিকা মেয়েটির মৃত্যু হয়, কিন্তু সুদেষ্ণা ও রোমি দে নামে দুই গৃহবধূ আছন্ন হয়ে পড়েন। পুলিশের ধারণা, এরপর ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে তাঁদের খুন করা হয়। পরে প্রসূন, প্রণয় এবং প্রণয়ের ছেলে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেন। গত মঙ্গলবার রাত ১২:৫৫-এ বাড়ি থেকে বেরিয়ে ই এম বাইপাসে মেট্রোর সাত নম্বর পিলারে গাড়ি ধাক্কা দেয়। তবে এই পরিকল্পনা সফল হয়নি।
হাসপাতালের বিল কে মেটাবে?
হাসপাতাল সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত প্রণয় বা তাঁর ছেলের চিকিৎসার বিল মেটানোর জন্য কেউ এগিয়ে আসেননি। দেনায় ডুবে থাকা এই পরিবার কীভাবে বেসরকারি হাসপাতালের বিপুল ব্যয়ভার বহন করবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, দে পরিবারের আর্থিক দুরবস্থা এতটাই তীব্র ছিল যে তারা বাড়িও বন্ধক দিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসার খরচ কে মেটাবে, তা একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার রহস্য ও পরিবারের দাবি
পুলিশের দাবি, আর্থিক দেনা থেকে মুক্তি পেতেই পরিবারটি সপরিবারে আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেছিল। ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতের ওষুধ মেশানো খাবারের পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে, ১৮ তারিখ সকালে দুই গৃহবধূকে খুন করা হয়। এরপর গাড়ি দুর্ঘটনার মাধ্যমে বাকি সদস্যরা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। কিন্তু দে পরিবারের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এই ঘটনার কয়েকদিন আগে পর্যন্ত তাঁদের জীবনযাত্রায় আর্থিক সমস্যার কোনও ছাপ পড়েনি। পাড়ার দোকানে কোনও বাকি বা ধারও ছিল না। তাহলে কি শুধু টাকার জন্যই এই চরম পদক্ষেপ? না অন্য কোনও গভীর কারণ রয়েছে?
তদন্তের পরবর্তী ধাপ
প্রণয় ও তাঁর ছেলে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলে পুলিশ কি তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে? এই প্রশ্নও এখন উঠছে। পুলিশের হাতে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ এবং তদন্ত থেকে জানা গেছে, গাড়িটি দুর্ঘটনার আগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেছে। তবে কীভাবে এবং কেন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হল, তা এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। শিক্ষিত ও ব্যবসায়ী এই পরিবারের এমন সিদ্ধান্ত শুধু হতবাকই করেনি, বরং অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ট্যাংরার এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য ক্রমশ গভীর হচ্ছে। প্রণয় ও প্রসূনের বক্তব্য এবং তদন্তের পরবর্তী ফলাফলই হয়তো এই প্রশ্নের উত্তর দেবে। তবে এই মুহূর্তে, হাসপাতালের বিল থেকে শুরু করে ঘটনার আসল কারণ—সবই রহস্যের আড়ালে।