OMG! মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হতেই বই ছিঁড়ে সেলিব্রেশন! দৃশ্য দেখে তাজ্জব শিক্ষকরা

জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা শেষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ কোনও নতুন ঘটনা নয়। মাধ্যমিক পরীক্ষার শেষ দিনে পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে পড়ুয়াদের উল্লাস, আবির খেলা, বা ব্যাঞ্জো বাজিয়ে নাচানাচি—এসব দৃশ্য বাংলার চেনা ছবি। কোথাও কড়া নিরাপত্তা থাকলে স্কুলে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু এবার মাধ্যমিক শেষে বই-খাতা ছিঁড়ে কুচি কুচি করে রাস্তায় উড়িয়ে দিয়ে উদ্দাম উৎসবের দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনায় অনেকেই হতবাক, উঠছে প্রশ্ন—এ কেমন উল্লাস?

প্রথমে জানা গিয়েছিল, আলিপুরদুয়ারে আক্রোশের জেরে এমনটা হয়েছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, শুধু আলিপুরদুয়ার নয়—বীরভূম, উত্তর ২৪ পরগনা, মালদা, এমনকি কলকাতার বাগুইআটির মতো জায়গায়ও একাধিক স্কুলের বাইরে মাধ্যমিক পড়ুয়ারা এভাবে বই ছিঁড়ে উল্লাস করেছে। দুই বছর ধরে যে বই পড়ে তারা পরীক্ষা দিয়েছে, সেই বইয়ের প্রতি ন্যূনতম সম্মান বা ভালোবাসা কি থাকবে না?

পড়ুয়াদের বক্তব্য
আলিপুরদুয়ারের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী অলিভিয়া চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কেন এমন ঘটনা ঘটল? সে জানায়, “আমি বই ছিঁড়িনি। কিন্তু আমার বন্ধুরা মনে করে, মাধ্যমিকে বসলেই পাশ করা যায়। তাহলে বই রেখে আর লাভ কী?” বারাসতের এক ছাত্র তো স্পষ্টই বলে, “কী হবে বই রেখে? টুকতেই তো পারলাম না! এত কড়া গার্ড দিয়েছে।”

শিক্ষামহলের বিস্ময়
এই ব্যাখ্যায় শিক্ষক-শিক্ষাবিদরা তাজ্জব। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভানেত্রী মমতা রায় বলছেন, এর পেছনে তিনটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, যারা বই ছিঁড়েছে, তাদের সঙ্গে বইয়ের কোনও সম্পর্কই গড়ে ওঠেনি। তারা সারাক্ষণ মোবাইলে মগ্ন ছিল, বইয়ের বদলে প্রাইভেট টিউশনের নোটসের ওপর ভরসা করেছে। দ্বিতীয়ত, ক্লাস নাইন পর্যন্ত পাশ-ফেল ছাড়া একের পর এক ক্লাসে উঠে গিয়ে অনেকে মাধ্যমিকে এসে প্রথমবার ফেলের মুখোমুখি হয়েছে। ফলে বইকে তারা ‘শত্রু’ মনে করছে। তৃতীয়ত, এবার কড়া নজরদারির জন্য ‘টোকার’ সুযোগ মেলেনি, তাই ক্ষোভে বই ছিঁড়েছে।

ফালাকাটা পারঙ্গেরপার শিশুকল্যাণ হাইস্কুলের প্রধানশিক্ষক প্রবীর রায়চৌধুরী বলেন, “এবার বোর্ডের নির্দেশে পরীক্ষায় কড়াকড়ি বেশি ছিল। পড়ুয়ারা অসদুপায়ের সুযোগ পায়নি। কিন্তু সেই ক্ষোভ এভাবে প্রকাশ পাবে, ভাবিনি।”

সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন
সল্টলেকের বেগম রোকেয়া স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শুভলক্ষ্মী ভক্ত বলছেন, “একমাত্র সন্তান হওয়ায় অনেকেই যা চায় তাই পেয়ে এসেছে। পাশ না হলে বাবা-মায়ের কাছে নতুন বই চাইবে, পেয়েও যাবে। তাই বই ছিঁড়তে বাধা নেই।” শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার এটাকে ‘নিম্নরুচি’ বলে আখ্যা দিয়ে আক্ষেপ করেন, “বই না ছিঁড়ে গরিব পড়ুয়াকে দান করার শিক্ষাও এরা পায়নি। আমরা কোথায় চলেছি?”

সোশ্যাল মিডিয়ায় এক চিকিৎসক লিখেছেন, “শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের শেষযাত্রা অনেক আগেই শুরু হয়েছে। বই ছিঁড়ে ছড়ানো তো স্বাভাবিক।” তবে প্রশ্ন থেকে যায়—মাধ্যমিকে বসলেই পাশের ধারণা কি এই প্রবণতার মূল? আর এভাবে বইয়ের প্রতি অসম্মান কি শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় আশঙ্কার কারণ হয়ে উঠছে না?