‘টাকার সব হিসেব আমরা দেব’,- ফান্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই জুনিয়র ডাক্তারদের ওয়েবসাইট ‘ভ্যানিস’?

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর জুনিয়র ডাক্তাররা যে আন্দোলনের ঢেউ তুলেছিলেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তাদের আন্দোলনের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথা থেকে আসছিল, তা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এমনকি ওয়েবসাইট মুছে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বক্তব্য স্পষ্ট করেছে।
WBJDF-এর বক্তব্য:
জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, অভয়ার জন্মদিনে তারা তার ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তারা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছ থেকে সাহায্য পেয়েছেন। অনেকেই তাদের আর্থিক সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। তাই তারা একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সময় বিভিন্ন কলেজের জুনিয়র ডাক্তাররা নিজেদের মতো করে অ্যাকাউন্ট খুলে সাহায্য নেওয়া শুরু করেন।
তাদের আন্দোলনে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। তাদের কাছে অনেক অনুদান এসেছে। তারা সেই সব মানুষের কাছে হিসাব দিতে বাধ্য, যারা তাদের সাহায্য করেছেন। তারা ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টকে হিসাব দেওয়ার জন্য অ্যাকাউন্টিং ও অডিটিং এর কাজ করছেন।
জুনিয়র ডাক্তারদের বিরুদ্ধে পুলিশি হেনস্থার অভিযোগও উঠেছে। তাদের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের জুনিয়র ডাক্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। কিন্তু কোন অভিযোগের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পুলিশ প্রশাসন দেয়নি।
পুলিশের প্রশ্নের ধরন ছিল মূলত এই যে, তোলা টাকা কেন স্টেজ বাঁধা, কনভেনশনের ব্যবস্থা করা, অভয়া ক্লিনিকের ওষুধ কেনা, সুপ্রিম কোর্টে জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য উকিল দেওয়া ইত্যাদি কাজে খরচ করা হয়েছে?
জুনিয়র ডাক্তাররা জানিয়েছেন, তাদের সব টাকার হিসাব রয়েছে। আর্থিক বর্ষের শেষে ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টকে সমস্ত অডিট পেশ করা হবে।
তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন থানা থেকে ডেকে এনে অ্যাকাউন্টের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। यह एक प्रकार का उत्पीड़न. তারা মনে করেন, ভবিষ্যতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে গেলে যাতে সবাই ভেবেচিন্তে আসে, সেজন্যই তাদের হেনস্থা করা হচ্ছে।
তারা আরও জানান, www.wbjdf.com ওয়েবসাইটটি তারা বন্ধ করেননি। ওয়েবসাইটটি এখনও তৈরি হচ্ছে। তারা তাদের বক্তব্য ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম পেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলের মাধ্যমে জানিয়েছেন। ওয়েবসাইট বন্ধ করে তারা সামাজিক মাধ্যম থেকে বিদায় নেয়নি।
জুনিয়র ডাক্তাররা তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তারা ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন। কোনো অপচেষ্টা তাদের আন্দোলনকে দমাতে পারবে না।
এই বিবৃতির মাধ্যমে জুনিয়র ডাক্তাররা তাদের আন্দোলনের তহবিল এবং ওয়েবসাইট নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তার একটা ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাদের বক্তব্য কতটা বিশ্বাসযোগ্য, তা এখন জনগণের উপর নির্ভর করে।