রেল স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু ১৮ জনের, গাফিলতির অভিযোগ রেলের বিরুদ্ধে

রাজধানী নয়াদিল্লি রেল স্টেশনে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ভিড়ের হুড়োহুড়ির ফলে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৮ জন যাত্রীর। এছাড়াও, আহত হয়েছেন ১০ জন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেলের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে, কারণ স্টেশন কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত অসংরক্ষিত টিকিট বিক্রি করেছিল, যার কারণে ভিড় ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল।

১৫ ফেব্রুয়ারি, মহাকুম্ভ মেলায় যোগদানের জন্য প্রয়াগরাজগামী ট্রেনের যাত্রীরা শনিবার সন্ধ্যায় নয়া দিল্লি রেল স্টেশনে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে একাধিক অব্যবস্থাপনা, ট্রেনের দেরি, প্ল্যাটফর্ম ঘোষণা নিয়ে বিভ্রান্তি এবং পরিকাঠামোগত সমস্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এর ফলে, রাত ৯:১৫ নাগাদ ঘটে যাওয়া পদপিষ্টের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়।

স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, সাধারণত, নয়া দিল্লি স্টেশন থেকে প্রতি দিন প্রায় ৪৬,০০০ অসংরক্ষিত টিকিট বিক্রি করা হয়, কিন্তু ওইদিন বিক্রি করা হয় ৫৬,০০০ টিকিট। অতিরিক্ত ভিড় এবং অসংরক্ষিত টিকিটের ব্যাপক চাহিদার কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাজার হাজার যাত্রী প্ল্যাটফর্মে অবস্থান করছিলেন, এবং বিভিন্ন ট্রেনের বিলম্ব এবং ঘোষণায় বিভ্রান্তির ফলে তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এর ফলস্বরূপ, একটি হুড়োহুড়ি পরিস্থিতি তৈরি হয়, এবং একের পর এক যাত্রী পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান।

এদিকে, উত্তর রেলের এক আধিকারিক দাবি করেছেন যে, নয়া দিল্লি স্টেশন ওই দিনের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক ভিড় সামাল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। তবে, বিশেষ ট্রেনের অতিরিক্ত সংখ্যক পরিচালনা এবং অসংরক্ষিত টিকিটের বিক্রির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। রেলের তথ্যমতে, কুম্ভমেলার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ট্রেনগুলির মাধ্যমে ২ কোটি ৯০ লক্ষ যাত্রী যাত্রা করেছেন।

এ ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে রেল কর্তৃপক্ষ নয়া দিল্লি স্টেশনে এক সপ্তাহের জন্য বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত প্ল্যাটফর্ম টিকিট বিক্রি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া, প্রয়াগরাজগামী সমস্ত বিশেষ ট্রেন ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে পরিচালিত হবে। প্রয়োজনে ১২ এবং ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মেও ট্রেন চলাচল করবে।

রেল কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপগুলোর পাশাপাশি, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার দিকে নিয়ে গিয়েছে।