“দয়া করে আমার স্ত্রীকে বাজে কথা বলবেন না”- মুণ্ড কাটায় অভিযুক্ত জলিল যা বললেন

গাইঘাটার এক অভিজ্ঞান এলাকায় নিহত হজরতের মুণ্ড কেটে হত্যার পর ঘটনার রহস্যে উন্মোচন হলো এক ভয়ঙ্কর গল্প। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে মঙ্গলবার, হত্যাকারী জলিল জানালেন সেই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ বিবরণ। গ্রেফতার হওয়ার পর, পুলিশের কাছে চুরির ৪০০ গ্রাম সোনা ভাগাভাগি নিয়ে কোন্দলের জেরে এই খুন হয়েছে বলে তথ্য মিলেছিল, কিন্তু প্রকৃত ঘটনা আরও ভয়ঙ্কর এবং অবিশ্বাস্য।
জলিলের মুখে বেরিয়ে আসে এক ভয়ানক সত্য, যা জানলে যে কেউ শিউরে উঠবেন। তদন্তকারীরা প্রথম থেকেই নিশ্চিত ছিলেন যে হত্যার এই অস্বাভাবিকতা শুধু কোন্দলের কারণে হয়নি, এর পেছনে আরও অনেক গভীর কারণ রয়েছে। জলিল জানান, তিনি ও তাঁর স্ত্রী সুফিয়া এবং নিহত হজরত একত্রে ছিলেন। তাদের মধ্যে যে সম্পর্কের নিত্য নতুন বাঁক ছিল, তা পুরো হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে উঠে আসে।
জলিলের বর্ণনা অনুযায়ী, “আমি হেঁটে আসছিলাম, সুফিয়া আগে ছিল, হজরত পিছনে ছিল। তারপর আমি দাঁ দিয়ে হজরতকে পিছন থেকে আঘাত করি। যখন সে পড়ে যায়, আমি আবারও মারতে থাকি। তারপর যখন সে প্রায় মৃত হয়ে যায়, আমি তাকে টেনে নিয়ে আসি। সুফিয়া একবার হাতুড়ি দিয়ে মারেছিল। তারপর, এক কোপে মাথা আলাদা হয়ে যায়, এবং আমি হজরতকে যৌনাঙ্গ কেটে ফেলি।”
নিহত হজরতের সঙ্গে সুফিয়ার একটি বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল এবং সেই সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার মধ্যে জলিলের স্ত্রী অসন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে জানিয়েছিলেন। হজরত, সুফিয়ার অনিচ্ছার পরেও তার সাথে জোরপূর্বক সম্পর্ক স্থাপন করতেন, যা জলিলের রাগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জলিল বলেন, “এটা অনেক দিন ধরেই আমার মাথায় ছিল, আমি রেগে গিয়েছিলাম। আমার ক্ষতি করা হচ্ছে, আমার ছোট ছেলেটার কিছুই করিনি, কিন্তু আমার এবং সুফিয়ার ভুলের শাস্তি কেন সে পাবে?”
জলিল যখন এই কথা বলছিলেন, তখন তাঁর গলা ধরে আসছিল, তিনি বলছিলেন, “দয়া করে আমার বউ সম্পর্কে খারাপ কিছু বলবেন না, আমি পায়ে পড়ে অনুরোধ করছি।” সুফিয়া জানান, হত্যার পর তিনি হাতুড়ি এবং মদের বোতল নিয়ে এসেছিলেন এবং সেই বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে হত্যার স্থানগুলো দেখিয়েছেন।
এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে একদিকে যেমন আবেগ ও সম্পর্কের বিষয় উঠে এসেছে, তেমনি এর পেছনে রয়েছে হিংসা ও অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্কের ইতিহাস। এর ফলে, গোটা এলাকার মধ্যে এই কাহিনি এখনও চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।