স্যালাইনে ‘বিষ’ ছিল না! ল্যাব রিপোর্ট দিয়ে হাইকোর্টে মামলার শুনানিতে জানাল রাজ্য

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৮ জানুয়ারি এক প্রসূতির মৃত্যু এবং তার পরবর্তী সময়ে স্যালাইন বিভ্রাটের অভিযোগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। তবে, রাজ্য সরকার ওই স্যালাইন প্রস্তুতকারী সংস্থাকে ক্লিনচিট দিয়েছে। রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনে কোনো সমস্যা ছিল না, এবং ল্যাব রিপোর্টের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ৯ জানুয়ারি থেকে রাজ্যজুড়ে এই ঘটনায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়, যখন অভিযোগ ওঠে যে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন ব্যবহারের কারণে প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। একদিনের মধ্যে, তিনটি অন্য প্রসূতির অবস্থাও আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে, যারা একই সময়ে সিজারিয়ান অপারেশনের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁদের অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকায় তিনজনকে বিশেষ গ্রিন করিডর করে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পরবর্তীতে, তাঁদের চিকিৎসা শেষে সুস্থ করে বাড়ি পাঠানো হয়। তবে, মৃত্যুর ঘটনার পর রাজ্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন উঠতে থাকে।
রাজ্য সরকার প্রথম থেকেই স্যালাইন বিভ্রাটের তত্ত্ব খারিজ করে এবং চিকিৎসা গাফিলতির অভিযোগ তুলে ১২ জন চিকিৎসককে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে, অভিযোগ ও বিতর্কের অবসান না হওয়ায় আদালতে মামলার শুনানি শুরু হয়। আদালতের নির্দেশে, রাজ্য সরকার ৫ ফেব্রুয়ারি রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, লিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনের মান সঠিক ছিল এবং স্যালাইনের নমুনা পরীক্ষায় কোনও ত্রুটি পাওয়া যায়নি।
এদিকে, স্যালাইন প্রস্তুতকারী সংস্থাও আদালতে তাদের পক্ষে বক্তব্য রাখে এবং দাবি করে যে, তাদের স্যালাইনে কোনও সমস্যা নেই। সংস্থাটি রাজ্যের তদন্তের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে।
যদিও রাজ্য সরকারের রিপোর্টের পর স্যালাইন বিভ্রাটের তত্ত্ব খারিজ করা হলেও, এখনো চিকিৎসা ব্যবস্থায় গাফিলতির বিষয়ে সিআইডি তদন্ত চলছে। ৮ জানুয়ারি একই সময়ে চিকিৎসাধীন পাঁচ প্রসূতির স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে গুরুতর প্রশ্ন ওঠেছে, যার তদন্তের জন্য বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।