“৫০০ বছরেও ছুঁতে পারবে না সাধারণ কর্মীরা”-কর্পোরেট জগতের বেতন বৈষম্য উঠে এল সমীক্ষায়

ভারতে চাকরির বাজারে বেতন বৈষম্য একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, দেশের বেসরকারি সংস্থাগুলিতে শীর্ষকর্তাদের বেতন সাধারণ কর্মীদের থেকে কয়েক গুণ বেশি। এই বৈষম্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে অতিমারির পর।

নিফটি ২০০ সূচকে অন্তর্ভুক্ত শীর্ষ ১১০টি সংস্থার কর্মী এবং শীর্ষ কর্তাদের বেতনের ফারাক নিয়ে সমীক্ষাটি করা হয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২৪ অর্থবর্ষের এই রিপোর্টে দেখা গেছে, শীর্ষকর্তাদের বেতন বৃদ্ধির হার গত কয়েক বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু সাধারণ কর্মীদের বেতন তা অনুসরণ করেনি।

বেতন বৈষম্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
২০১৯ অর্থবর্ষে, শীর্ষকর্তাদের গড় বেতন ছিল সাড়ে ৭ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১২ কোটি টাকায়। এই সময়ে শীর্ষকর্তাদের বেতন বৃদ্ধির হার ছিল ৬১%, যা ২০২৪-এ বেড়ে হয়েছে ৬৫%। তবে, সাধারণ কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির হার তাৎপর্যপূর্ণভাবে কম। ২০১৯ অর্থবর্ষে শীর্ষকর্তাদের এবং সাধারণ কর্মীদের মধ্যে বেতনের ফারাক ছিল ১১%, যা ২০২৪ সালে বেড়ে ১৬% হয়ে গেছে।

কর্মীদের বেতন এবং বেতন বৈষম্য
সমীক্ষায় উঠে এসেছে, দেশের বিভিন্ন সেক্টরে কর্মীদের গড় বেতন এক নয়। যেমন, ফিনান্সিয়াল ও পরিকাঠামো খাতে সাধারণ কর্মীদের গড় বার্ষিক বেতন ৫ থেকে ১৩ লক্ষ টাকা। তবে, বেশিরভাগ কোম্পানির কর্মীদের বার্ষিক গড় বেতন ১০ লক্ষ টাকার নিচে। অন্যদিকে, শীর্ষকর্তাদের বেতন লাখের ঘরে পৌঁছায়। ফলে, এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে সাধারণ কর্মীদের শীর্ষকর্তাদের বেতন ছুঁতে হলে তাদের কয়েকশো বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।

বেতনের ফারাক নিয়ে আলোচনা
সম্প্রতি, জনপ্রিয় কিছু সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের বক্তব্যে বেতনের বৈষম্য আরও সামনে এসেছে। ইনফোসিসের কর্তা নারায়ণমূর্তি এবং লারসেন অ্যান্ড টুব্রোর কর্তা সুব্রহ্ম্যণম উভয়ই দীর্ঘ কাজের ঘণ্টার পক্ষে সওয়াল করেছেন। নারায়ণমূর্তি সপ্তাহে ৭০ ঘণ্টা কাজের কথা বলেছেন, আর সুব্রহ্ম্যণম ৯০ ঘণ্টা কাজের পরামর্শ দিয়েছেন। এর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বেতন বৈষম্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

বেতনের বৈষম্য: একাধিক সংস্থায় অসামঞ্জস্য
সমীক্ষায় দেখা গেছে, পুনাওয়ালা ফিনকর্পের শীর্ষকর্তাদের বেতন সাধারণ কর্মীদের থেকে ২ হাজার ৬৭৯ গুণ বেশি, টেক মাহিন্দ্রার শীর্ষকর্তাদের বেতন ১ হাজার ৩৭৯ গুণ বেশি, এবং উইপ্রোতে ১ হাজার ৭০১ গুণ বেশি। এমন বাস্তবতায়, সাধারণ কর্মীদের কাছে মনে হচ্ছে, এই বেতন বৈষম্য হয়তো কখনই দূর হবে না।

এই বৈষম্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে, তবে, সাধারণ কর্মীদের জন্য তেমন কোনো পরিবর্তন আসবে কিনা, তা এখনও অজানা।