স্কুলের সামনে বন্দুক হাতে ‘উচ্ছাস’! মাঠে প্রকাশ্যে বন্দুকবাজি, প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা

দুলাল সরকার খুনের ঘটনার একমাস না যেতেই ফের বন্দুকের আওয়াজে কেঁপে উঠল মালদহ। এবার কোনও অপরাধমূলক ঘটনা নয়, বরং একটি ভলিবল টুর্নামেন্টের সূচনা অনুষ্ঠানেই চলল অবাধে গুলি। মানিকচকের নুরপুর এলাকায় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্কুলের মাঠে প্রকাশ্যে একাধিক ব্যক্তির হাতে বন্দুক এবং তাদের শূন্যে গুলি চালানোর ছবি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গিয়েছে, নুরপুর টিপটপ ক্লাব অ্যান্ড লাইব্রেরির উদ্যোগে বৃহস্পতিবার নুরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে একটি ভলিবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানেই ক্লাবের কয়েকজন সদস্য বন্দুক নিয়ে এসে শূন্যে পর পর কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বহু মানুষের মধ্যে এহেন ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে ক্লাবের সদস্যদের হাতে এতগুলি আগ্নেয়াস্ত্র এল? বন্দুক কি এতটাই সহজলভ্য হয়ে গিয়েছে?
অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষ ছাড়াও শাসক দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি। ঘটনার খবর পেয়ে মানিকচক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং আগ্নেয়াস্ত্রগুলি নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, যাদের বন্দুক ছিল তাদের সম্ভবত লাইসেন্স ছিল। তবে প্রশ্ন উঠছে, লাইসেন্স থাকলেই কি যেখানে সেখানে গুলি চালানো যায়? এই অনুষ্ঠানের জন্য পুলিশের কোনও অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী জানিয়েছেন, পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং মালদহকে অপরাধমুক্ত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, “গুলি চালানোর প্রয়োজন হলেও পুলিশের অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল। এভাবে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “যদি কারও কোনও ক্ষতি হতো, তাহলে তার দায় কে নিত?”
এই ঘটনার পর মালদহের গ্রামে গ্রামে কীভাবে এত আগ্নেয়াস্ত্র ছড়িয়ে পড়ছে, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।