গাঁজা কিনতে আসানসোল থেকে বর্ধমানে, ক্যামেরা দেখতেই ছুটে পালালেন ক্রেতা

মেমারি পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের চকদিঘি মোড়ের কৃষ্টি হলের পিছনে গাঁজা বিক্রেতা সঙ্গীতা সাহানির বাড়িতে এক ভিন্ন চিত্র দেখা গেল। সঙ্গীতা এখন শ্রীঘরে, এই খবর না থাকায় বৃহস্পতিবার সকালেও প্রতিদিনের মতো গাঁজার ক্রেতারা এসে ভিড় করেন তার বাড়িতে। পছন্দের “পুড়িয়া”র জন্য নিয়ম মেনে বাড়ির একটি নির্দিষ্ট জানলায় টোকাও দেন তারা। কিন্তু জানলা না খোলায় এবং পরে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা দেখে তারা দৌড়ে পালান।
আসানসোলের বাসিন্দা জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তিও আসানসোল থেকে রিকশা নিয়ে সঙ্গীতার বাড়িতে এসেছিলেন গাঁজা কিনতে। কিন্তু থানা-পুলিশের কথা শুনে তিনি দ্রুত রিকশায় ফিরে যান। রিকশাওয়ালা জানান, ওই ব্যক্তি প্রায়ই গাঁজা কিনতে আসতেন এখানে।
ক্রেতাদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ:
এদিন ক্রেতাদের মধ্যে ভ্যানচালক, ব্যবসায়ী এবং বেশ কিছু কলেজ পড়ুয়াও ছিলেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সঙ্গীতাদের গাঁজার ব্যবসা পুরোপুরি পারিবারিক। সঙ্গীতার মায়ের স্বামী প্রথম এই ব্যবসা শুরু করেন। পরে তার মা লালপুরি ও তার ছেলে ব্যবসার ভার নেন। লালপুরির ছেলে বছর তিনেক মাদক মামলায় জেল খেটে ছাড়া পাওয়ার পরেই এক পথ দুর্ঘটনায় মারা যায়। এরপর ব্যবসার হাল ধরেন সঙ্গীতা।
লালপুরির তিন মেয়ের মধ্যে সঙ্গীতা মেজো। জামালপুরে তার শ্বশুরবাড়ি। পুলিশ সেখানে তদন্তে গেলেও তার স্বামী বা দেওর কাউকেই পাওয়া যায়নি। সকলেই পলাতক।
এদিন সঙ্গীতাকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথমে সঙ্গীতা দাবি করেছিল যে সে মায়ের বাড়ি বেড়াতে এসেছে এবং কিছুই জানে না। পরে টাকা উদ্ধার হওয়ায় সে জানায়, তার ভাইয়ের পথ দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণের টাকা এটি। যদিও এর সপক্ষে সে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি।
বর্ধমান দক্ষিণের এসডিপিও অভিষেক মণ্ডল বলেন, ‘সঙ্গীতা আমাদের ভুলপথে চালিত করার অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু লাভ হয়নি। এখন হেফাজতে নেওয়ার পর কোথা থেকে গাঁজা আনা হতো সে সব নিয়ে জেরা করা হবে।’
দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গাঁজার ব্যবসা চললেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পূর্ব বর্ধমান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি, এটা ঠিক নয়। লালপুরি সাহানি, তাঁর ছেলে, স্বামী সবাইকে পুলিশ ধরেছে। বেশ কিছু দিন ব্যবসা বন্ধ ছিল। ফের কারবার শুরু করে ওরা। হয়তো ধারাবাহিক নজরদারির একটা অভাব ছিল। আগামী দিনে আরও কড়া ভাবে নজরদারি চালানো হবে।’