রাতে খাওয়ার পর বাড়ির সামনে ঘোরাঘুরি, আচমকাই হামলা, ঘোর আতঙ্কে কাঁপছে মৈপীঠ

সুন্দরবনের কুলতলির মৈপীঠে বাঘের আতঙ্ক ক্রমশ বাড়ছে। বৃহস্পতিবার রাতে ভুবনেশ্বরী পঞ্চায়েতের দেবীপুর নকুলের মোড় এলাকায় এক নবম শ্রেণির ছাত্রের উপর বাঘের হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাহুল হালদার নামের ওই কিশোর রাতে খাওয়ার পর বাড়ির সামনে ঘোরাঘুরি করছিল, তখনই আচমকা একটি বাঘ তার পিঠে থাবা বসায়। রাহুলের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এলে বাঘটি পালিয়ে যায়। বর্তমানে রাহুল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে রাহুল জানায়, ‘আমি রাতে খাওয়ার পর বাড়ির সামনের রাস্তায় হাঁটছিলাম। হঠাৎ বাঘ আমার পিঠে থাবা বসায়। আঁচড়ে দিয়েছে পিঠটা। আমার চিৎকার শুনে দাদারা ছুটে আসেন। পাড়ার লোকজনও আসেন। এরপরেই সেখান থেকে বাঘটি পালিয়ে যায়।’
এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামবাসীরা বাঘের ভয়ে বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছেন।
বুধবার মৈপীঠের লোকালয়ে একটি বাঘ দেখা গিয়েছিল। বনদপ্তরের কর্মীরা তাকে জঙ্গলে ফেরানোর চেষ্টা করলেও সে এলাকা ছাড়েনি। স্থানীয়দের দাবি, বাঘটি মাকড়ি নদী পেরিয়ে লোকালয়ে এসেছিল। অনেকেই বাঘটিকে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। এই প্রথম কোনো মানুষের উপর বাঘের হামলার ঘটনা ঘটলো।
এলাকাবাসীরা বুধবার বনদপ্তরে খবর দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে কিশোরের উপর হামলার ঘটনার পর আবারও বনদপ্তরকে জানানো হয়েছে। তারা দ্রুত বাঘটিকে খাঁচা বন্দি করে জঙ্গলে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন। বনদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
শীতকাল শুরু হতেই সুন্দরবনের আশেপাশে লোকালয়ে বাঘের আনাগোনা বেড়ে যায়। এর আগে ২০২৩ সালে কুলতলি ব্লকের মৈপীঠ উপকূল থানার গুড়গুড়িয়ার গৌড়ের চক গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় বাঘের পায়ের ছাপ দেখা গিয়েছিল। সেই সময়ও বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে এলাকার মানুষজনকে গৃহবন্দী থাকতে হয়েছিল।
এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি মৈপীঠের বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।