পুনের নাবালক গাড়ি চাপিয়ে হত্যা করলো দু’জনকে ৯০ মিনিটে পানশালায় ৪৮ হাজার টাকা উড়িয়ে দিয়েছে! আজ শাস্তির সিদ্ধান্ত হবে?

গত রবিবার পুণেতে ঘটে এক ঘটনা৷মত্ত অবস্থায় নিজের বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে একটি মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা মারে এই নাবালক৷এই ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত দুই তরুণ-তরুণীর মৃত্যু হয়৷সেই মৃত ব্যাক্তিদের নাম হলো “অনীশ আওয়াধিয়া এবং অশ্বিনী কোস্ত” তাদের বয়স ছিল মাত্র ২৪ বছর, তাঁরা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পুণেতে কর্মরত ছিলেন৷এই সূত্রে জানা গিয়েছে ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার গতিতে চলছিল ওই পোর্সে গাড়িটি৷কিন্তু নাবালক হওয়ায় আদালত থেকে জামিন পেয়ে যায় ওই অভিযুক্ত।
সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী ওই নাবালক তার বন্ধুদের সাথে নিয়ে পুনের দুটি পানশালায় মদ্যপান করেন। আর ওই দুটিও পানশালার মধ্যে একটির CCTV ফুটেজে দেখা যায় যে ওই নাবালক ও তার বন্ধুরা মিলে প্রায় ৪৮ মিনিট ধরে সেখানে মদ্যপানে ব্যস্ত ছিল। পুলিশ সেই পানশালায় গিয়ে জিজ্ঞসাবাদ করলে দেখা যায় ওই নাবালক ও তার বন্ধুরা মোট ৪৮০০০ টাকার মদ পান করেছে।
এরপর পুলিশ নাবালককে মদ দেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুধ্যে তঁ০দন্ত শুরু করেছে ও সেই দুটি পানশালা সিল করে দিয়েছে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটানো সত্ত্বেও ওই অভিযুক্তকে শুধুমাত্র নাবালক হওয়ার কারণ দেখিয়ে জামিনে ছেড়ে দেয় জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড। ওই অভিযুক্তকে শাস্তি হিসেবে দেওয়া হয় পথ দুর্ঘটনা নিয়ে একটি রচনা লেখার নির্দেশ। এই অবাক করা শাস্তির সিদ্ধান্তে গোটা দেশজুড়ে ওঠে সমালোচনার ঝড়।
বিষয়টি মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশের নজরে এলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন ও ওই নাবালককে যাতে প্রাপ্ত বয়স্কের অপরাধীর মতোই গণ্যই করা হয় সেই বিষয়ে সওয়াল করেন। আর তারপরেই পুনে পুলিশের পক্ষ থেকে ওই অভিযুক্তকে প্রাপ্ত ব্যপ্স্কের অপরাধীর মতোই বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে আবেদন করা হয়। আজ সেই আবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তের কথা জানাবে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড।
তবে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়ে ওই নাবালকের বাবা বিশাল আগরওয়াল এবং যে পানশালা দুটিতে সে মদ্যপান করেছিল, সেখানকার চার কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ মহারাষ্ট্রের পরিবহণ দফতর অবশ্য জানিয়েছে, ওই নাবালক ২৫ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবে না৷ আরও জানা গিয়েছে, যে বিলাসবহুল পোর্সে গাড়িটি নিয়ে ওই নাবালক এই দুর্ঘটনা ঘটায়, মাত্র ১১৭৫ টাকা জমা না দেওয়ায় গত মার্চ মাস থেকে সেটির রেজিস্ট্রেশন বকেয়া ছিল৷ এনডিটিভিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছেলে এই কাণ্ড ঘটানোর পরই পুলিশকে বিভ্রান্ত করে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন ওই নাবালকের বাবা পেশায় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী বিশাল আগরওয়াল৷