OMG! ৯০ মিনিটে পানশালায় খরচ ৪৮ হাজার! আকণ্ঠ মদ্যপান করে স্টিয়ারিংয়ে নাবালক, চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের

গত শনিবার রাতে পুনের কল্যাণী নগরে ভয়াবহ মোটরবাইক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ২৪ বছরের দুই ইঞ্জিনিয়ার – অনীশ আওয়াধিয়া এবং অশ্বিনী কোশতার।

২০০ কিলোমিটার বেগে বিখ্যাত রিয়েলটরের ১৭ বছরের নাবালক ছেলে, মদ্যপান করে ঝড়ের গতিতে পোর্শে গাড়ি চালিয়ে মোটরবাইকে ধাক্কা মারে।মোটরবাইকের দুই সওয়ারি প্রায় ২০ ফুট উড়ে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায়।১৫ মিনিটের মধ্যে নাবালককে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু মাত্র ১৫ ঘণ্টার মধ্যেই সে জামিন পেয়ে যায়।

জামিনের শর্তাবলী:
১৫ দিন ইয়েরওয়াড়ায় ট্র্যাফিক পুলিশের সঙ্গে কাজ করতে হবে।দুর্ঘটনা নিয়ে ৩০০ শব্দের রচনা লিখতে হবে।মদের নেশা ছাড়াতে ট্রিটমেন্ট এবং কাউন্সেলিং করাতে হবে।

১৭ বছরের এই কিশোর এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর ছেলে। জানা যাচ্ছে, ঘটনার ঠিক আগে দু’দুটি পানশালায় মদ্যপান করেছিল সে। তার মধ্যে একটি পানশালায় মাত্র ৯০ মিনিটে ৪৮ হাজার টাকা উড়িয়েছিল।

পুনের পুলিশ কমিশনার অমিতেশ কুমার বলেন, ‘রবিবার রাত ১০টা বেজে ৪০ মিনিট নাগাদ পুনের কোসি নামে একটি পানশালায় গিয়েছিল অভিযুক্ত যুবক ও তার বন্ধুরা। সেখানে ৪৮ হাজার টাকার বিল পেমেন্ট করে সে। এরপর দ্বিতীয় পানশালার উদ্দেশে রওনা দেয় তারা। মধ্যরাত ১২টা ১০ মিনিট নাগাদ দ্বিতীয় পানশালা ব্ল্যাক ম্যারিয়টে যায় তারা। কোসিতে অতিরিক্ত মদ না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ব্ল্যাক ম্যারিয়টে যায় অভিযুক্ত নাবালক।’

ACP মনোজ পাটিল বলেন, ‘পোর্শেটির স্টিয়ারিংয়ে বসার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত আকণ্ঠ মদ্যপান করেছিল নাবালক। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত CCTV ফুটেজ রয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, ছেলেটি ও তার বন্ধুরা দেদার মদ খাচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তাদের সকলের রক্তের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসা বাকি।’

উদ্ধবপন্থী শিবসেনা গোষ্ঠী সাংসদ সঞ্জয় রাউতের অভিযোগ, জনৈক বিধায়কের হাত থাকায় পুনে পুলিশ এই পোর্শে মামলায় পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। এ প্রসঙ্গে ACP বলেন, ‘আমি যে কোনও আইন বিশেষজ্ঞকে গোটা তদন্ত প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। আমাদের নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ যাচাই করে দেখা হোক কোথায় পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করা হচ্ছে।’

রাহুল গান্ধী এই পোর্শে মামলায় সুর চড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ধনী পরিবারের এক নাবালক যখন মদ্যপান করে পোর্শে চাপা দিয়ে দু’জনকে হত্যা করে, তাঁর সঙ্গে এম বিশেষ ট্রিটমেন্ট কেন? তাঁকে থানায় রচনা লিখতে বলা হচ্ছে। তাহলে, বাস, অটোচালক কিংবা ট্যাক্সিচালকদের কেন সে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না?’