‘অনেকটা প্ল্যানিং রয়েছে…’, কেন মমতার মুখে কার্তিক মহারাজের নাম? সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক মহারাজ!

ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের কার্তিক মহারাজের মুখে হঠাৎই শোনা গেলো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম। কিন্তু কেন তিনি হঠাৎ করেই মমতা ব্যানার্জীর নাম মুখে নিলেন সেই কারণের ব্যাখ্যা দিলেন তিনি । সম্প্রতি এক সংবাদ মাধ্যমের সাক্ষাৎকারে কার্তিক মহারাজ দাবি করেন, এটা হঠাৎ করে বলে দেওয়া কোনও কথা নয়। এর পিছনে রয়েছে ‘অনেক প্ল্যানিং’।
সম্প্রতি একটি সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী জানান, “সব সাধু তো সমান হয় না। এই যে বহরমপুরের একজন মহারাজ রয়েছেন। কার্তিক মহারাজ। আমি শুনেছি অনেক দিন ধরে। আমি ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘকে আমি খুব শ্রদ্ধা করতাম। কিন্তু যে লোকটা বলে, তৃণমূল কংগ্রেসের এজেন্টকে বুথে বসতে দেব না। তাকে আমি আর শ্রদ্ধা করি না।”
জানা গিয়েছে, কার্তিক মহারাজ একটি আইনি চিঠি পাঠিয়েছেন। যেখানে জানানো হয় সাধু সন্তদের নিয়ে এই মন্তব্যের জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমা চাওয়ার জন্য। এমনকি এই প্রশ্ন করা হয় যে, কেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার সাধু সন্তদের মধ্যে নির্দিষ্টভাবে কার্তিক মহারাজের নাম টাই নিয়েছেন?
শুধু টাই নয়, সেই সাক্ষাৎকারে কার্তিক মহারাজ আরো বলেন, “এই অভিযোগ আচমকা হঠাৎ নয়। এটা অনেক প্ল্যানিং করে করেছেন। কারণ কিছু আগেই সিটিং এমএলএ হুমায়ুন কবীর মন্তব্য করেছেন, ৭০ শতাংশ আমরা এখানে, ৩০ শতাংশ হিন্দু।”
“আমি মুর্শিদাবাদে দীর্ঘদিন রয়েছি। অধীর চৌধুরী এখানে দীর্ঘদিন আসতেন। টাকা দিয়েছেন। কংগ্রেসের সফি এখানে টাকা দিয়েছেন। এখানে মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী টাকা দিয়েছেন। স্বপন চৌধুরী, দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদাররা এসেছেন। শুভেন্দু অধিকারীর পরিবারের সঙ্গে বহুদিনের যোগাযোগ। এখানে ১২ টা স্কুল। তার মধ্যে ৮০ শতাংশ হচ্ছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত” বলেন সেই মহারাজ।
কার্তিক মহারাজকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের এখানে শুভেন্দুদা বেশিরভাগ সময়েই আসেন। এখানে ১০ বিঘা জমি। বামফ্রন্টের আমলে বীনয়ভূষণ চৌধুরী দিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই জানুন, কেন আমার নাম করেছেন। অপূর্ব সরকার, সায়নী- ওঁদের জিজ্ঞাসা করলেই বোঝা যাবে কোথায় কোন বুথ এজেন্টে বার করে দেওয়ার কথা বলেছি? এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। একথা সত্য প্রমাণ করতে পারলে, শাস্তি মাথা পেতে নেব। আমি কোনও ডন নই। আমি কোনও মস্তানবাহিনী পরিচালনা করি না। আমি হিন্দু সমাজের সন্ন্যাসী। আমি সমাজ ধর্ম সংস্কৃতি নিয়ে চলি।”