“১ কেজি আমের দাম ১ লাখেরও বেশি!”-রাজ্যে কোথায় চাষ হচ্ছে মিয়াজাকি আম?

জাপানি প্রজাতির মিয়াজাকি আম, যা বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম হিসেবে পরিচিত, এখন কি সত্যিই এর চাহিদা হারিয়ে ফেলছে? গত বছর, এই আমের দাম ছিল প্রতি কেজি আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত।
দুর্লভ এবং সুস্বাদু: মিয়াজাকি আমের রঙ লালচে, উপরে বেগুনি আভা থাকে। এটি দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং স্বাদেও অতুলনীয়। জাপানে এটিকে “সূর্যের ডিম” বলা হয়। সাধারণ আমের তুলনায় এটি ১৫ গুণ বেশি মিষ্টি।
গত বছরের রোমাঞ্চ: গত বছর, বীরভূমের দুবরাজপুরের একটি মসজিদের মিয়াজাকি আম গাছটি ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। মাত্র ৮-১০ টি আম থাকা সত্ত্বেও, এর দামের কারণে অনেকেই এটি দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন।
এখন কি চাহিদা নেই? কিন্তু এবছর, চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজনগরের কৃষক মান্নান খান, যিনি গত বছর ২৫০ টি মিয়াজাকি আম উৎপাদন করেছিলেন, জানাচ্ছেন যে এবছর চাহিদা অনেক কম। তিনি ১০,০০০ টাকা দাম চেয়েছিলেন, কিন্তু কেউই কিনতে চায়নি। শেষ পর্যন্ত তাকে প্রতিটি আম ২০০০ টাকা করে বিক্রি করতে হয়েছে।
কারণ কী? চাহিদা কমে যাওয়ার কারণ স্পষ্ট নয়। সম্ভবত উচ্চ দাম অনেক ক্রেতাকে দূরে রাখছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই বছর ঝড় এবং রোদে অনেক আম পড়ে গিয়েছে। এখন তিনটি গাছে ১০০টির মতো আম রয়েছে। কত দাম পাব তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছি। কারণ এই আমের নাম জানাজানি হতেই এখন অনেকে এই গাছের চারা বাড়িতে লাগিয়েছে। আমি চাই আরও ২০টি মিয়াজাকি আমের গাছ লাগাতে।’
ভবিষ্যৎ কি? মিয়াজাকি আমের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এর সুস্বাদু স্বাদ এবং দুর্লভতার কারণে এটি এখনও অনেকের কাছে আকর্ষণীয়। তবে, দাম কম না হলে এর জনপ্রিয়তা টিকিয়ে রাখা কঠিন হতে পারে।