‘ভিক্ষাবৃত্তি’তে এনেছিলেন বিপ্লব! শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন দেশের প্রথম ডিজিটাল ভিখারি

অনেকেরই মনে আছে রাজু পাটেলকে। ভারতের অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে রাজু নিজের পেশাতেও এনেছিলেন বড় পরিবর্তন। কিউআর কোড ব্যবহার করে ভিক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে তিনি পরিচিত ছিলেন দেশের প্রথম ডিজিটাল ভিক্ষুক হিসেবে।

অন্য ভিক্ষুকদের হাত পেতে দাতাদের কাছে ভিক্ষা চাওয়ার বিপরীতে, রাজু তার গলায় ঝুলিয়ে রাখতেন কিউআর কোড। দাতারা সেই কোড স্ক্যান করে সহজেই তাকে ভিক্ষা দিতে পারতেন।

৪১ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান রাজু। সময়ের সাথে সাথে বিজ্ঞানের অগ্রগতি স্পর্শ করেছে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র। আজকাল আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্মও ডিজিটাল। রাজুও তার নিজস্ব জগতে এনেছিলেন এই পরিবর্তন। ভিক্ষাবৃত্তিতেও এনেছিলেন নতুনত্ব।

রাজু সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য:

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল ডিজিটাল মাধ্যমে ভিক্ষা করার তার ভিডিও।রেল স্টেশনে ঘুমান স্টেশনে থাকতেন রাজু। জীবিকা নির্বাহের জন্য ভিক্ষা করাই ছিল তার একমাত্র উপায়।অনেকেই ভিক্ষা চাইলে খুচরো নেই বলে অস্বীকার করতেন। তাই রাজু ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবস্থার সুযোগ নেন।
তবুও অনেকেই তাকে নগদ টাকা দিতেন। রাজু বুঝতে পারেন ডিজিটাল যুগে নগদ টাকা বহন করা অপ্রয়োজনীয়। তাই তিনি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে ফোন পে ব্যবহার করে ভিক্ষা নিতে শুরু করেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একজন ভক্ত ছিলেন রাজু। ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ অভিযানের প্রশংসা করতেই শোনা যেত তার মুখে। নিয়মিত শুনতেন মোদীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানও।রাজু পাটেল চলে গেলেও, ভিক্ষাবৃত্তিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনি যে পথ দেখিয়েছিলেন তা অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।