উচ্চমাধ্যমিকে সেমিস্টার পদ্ধতিকে স্বাগত জানালেও সিলেবাস নিয়ে প্রশ্ন উঠছে শিক্ষামহলে

২০২৫ সাল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা বন্ধ হচ্ছে। এর পরিবর্তে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে দুইবার সেমিস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই বছর মাধ্যমিক উত্তীর্ণরা প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।

শিক্ষামহল এই নতুন পদ্ধতিকে স্বাগত জানালেও, কিছু প্রশ্নও থেকে গেছে।

নতুন পদ্ধতি কীভাবে কাজ করবে:
একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে দুইবার করে সেমিস্টার পরীক্ষা হবে।প্রতিটি সেমিস্টারে ৫০% করে মোট ১০০% নম্বরের পরীক্ষা হবে।সেমিস্টার পরীক্ষার পাশাপাশি, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।২০২৬ সালে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা প্রথমবারের মতো সেমিস্টার পদ্ধতিতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে।

শিক্ষামহলের উদ্বেগ:
সেমিস্টার পরীক্ষার জন্য পাঠ্যক্রম সংক্ষিপ্ত করতে হবে।শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজন।সার্বক্ষণিক মূল্যায়নের ফলে শিক্ষকদের উপর চাপ বৃদ্ধি পাবে।

নারায়ণ দাস বাঙ্গুর মেমোরিয়াল মাল্টিপারপাস স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় বড়ুয়া বলেন, “এতে অনেকটাই সুবিধা হবে ৷ তার কারণ ছাত্রছাত্রীরা এবার ভেঙে ভেঙে পড়তে পারবে ৷ তার সঙ্গে সেইভাবে পরীক্ষাও দিতে পারবে ৷ তবে সমস্যাটা হচ্ছে সিলেবাস নিয়ে ৷ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যদি সিলেবাসটা এসে যায়, তাহলে পড়ুয়াদের সুবিধা হবে ৷ বহু ছাত্ররা আমাদের জিজ্ঞাসা করছেন তাঁরা কী পড়বেন ৷ চূড়ান্ত সিলেবাস না আসায় আমরা ঠিকমতো তাঁদের বলতে পারছি না ৷”

শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার বলেন, “আমি একটু পুরনোপন্থী ৷ আমার মনে হয়, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা একবার হাওয়াই ভালো ৷ তার কারণ আমার মনে হয় বছরে দু’ভাগে পরীক্ষা হলে যথাযথ মূল্যায়ন করা সম্ভব নয় ৷ এতে শুধুমাত্র পরীক্ষাটাই হবে ৷ বাচ্চারা ঠিকমতো শিখতে পারবে না ৷”

সরকারের আশ্বাস:
পাঠ্যক্রম সংক্ষিপ্ত করা হবে এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।সার্বক্ষণিক মূল্যায়নের জন্য নীতিমালা তৈরি করা হবে।উচ্চ মাধ্যমিকে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করার সিদ্ধান্ত শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এই নতুন পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা যাচাই করার সুযোগ করে দেবে।

তবে, এই পদ্ধতি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে যথাযথ প্রস্তুতি নিতে হবে।