পথ কুকুরের চেয়ে মানুষের জীবন বেশি গুরুত্বপূর্ণ, পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের

পথ কুকুরের হামলা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ, মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশ
কেরালা হাইকোর্ট সম্প্রতি পথ কুকুরের হামলার বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং মানুষের নিরাপত্তাকে পথ কুকুরের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

কেরালার কান্নুরের মুজথাদান ওয়ার্ডের রাজীব কৃষ্ণান নামে এক ব্যক্তি একটি জখম পথ কুকুরকে বাড়িতে নিয়ে এসে লালনপালন করেন।অভিযোগ ওঠে যে কৃষ্ণানের বাড়িতে ও আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি পথ কুকুরের উপস্থিতির কারণে বাসিন্দারা চলাচলে সমস্যায় পড়ছেন।স্থানীয় বেশ কয়েকজন পথ কুকুরের হামলার শিকারও হন।এরপর, দুই স্থানীয় বাসিন্দা কৃষ্ণানের বিরুদ্ধে কেরালা হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ:
বিচারপতি পিভি কুনহিকৃষ্ণানের বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়।আদালত পর্যবেক্ষণে জানায় যে, কুকুরের আক্রমণের ভয়ে স্কুলছাত্ররা একা স্কুলে যেতে পারছে না এবং বাসিন্দারা নির্দিষ্ট এলাকা দিয়ে হাঁটা এড়িয়ে যাচ্ছেন।আদালত মনে করে যে, প্রশাসন কুকুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারলেও কুকুরপ্রেমীদের জন্য ব্যবস্থা নিতে পারছে না।বিচারপতি কুনহিকৃষ্ণান মনে করেন যে, এটি সমাজের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আদালতের নির্দেশ:
আদালত স্থানীয় প্রশাসনকে পথ কুকুরের চেয়ে মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশ দিয়েছে।আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, যারা পথ কুকুরের দেখভাল করতে চান তাদের স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে।লাইসেন্স ইস্যু করার সময় ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের পথ কুকুর নিয়ন্ত্রণ আইন মেনে চলতে হবে।রাজীব কৃষ্ণানকে আগামী এক মাসের মধ্যে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি রিপোর্ট অনুসারে, ২০১৯ সালে কেরালায় ৫,৫০০ টিরও বেশি পথ কুকুরের হামলার ঘটনা ঘটেছিল।২০২০ সালে হামলার সংখ্যা ছিল ৩,৯৫১, ২০২১ সালে ৭,৯২৭ এবং ২০২২ সালে ১১,৭৭৬।২০২৩ সালে ৬,২৭৬টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

কেরালা হাইকোর্টের এই রায় পথ কুকুরের হামলার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্ব