কথায় কথায় কেঁদে ফেলেন? জানুন এর ফলে কী হচ্ছে আপনার শরীরে!

জায়গায় জায়গায় গড়ে উঠেছে লাফিং ক্লাব। হাসি যে স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারি তা প্রায় সবাই এখন জানেন। কিন্তু কখনও কি কান্নার উপকারিতা শুনেছেন?
গবেষণা বলছে, কান্না পেলে এবার আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন নেই। কারণ কান্না মন এবং শরীর উভয়কেই সুস্থ রাখে। গবেষণায় দেখা যায় মানুষের কান্না ৩ প্রকার। আর শুধু তাই নয় এই কান্নার উপকারিতাও প্রচুর।
বেসাল টিয়ার্স: আপনি প্রায়ই দেখে থাকবেন, অনেক সময় আপনি ঘুমিয়ে পড়েছেন এবং চোখের পলক পড়লে এই অশ্রু বেরিয়ে আসে। এই চোখের জলকে বেসাল টিয়ার্স বলা হয়। এগুলি চোখের আর্দ্রতা ধরে রাখতে কাজ করে। এগুলি আবেগহীন কান্না।
রিফ্লেক্স টিয়ার্স: মাঝে মাঝে রাস্তায় বের হলে ধুলাবালি ও ধোঁয়ার কারণে চোখে জল চলে আসে। এই ধরনের কান্নাকে বলা হয় রিফ্লেক্স টিয়ার্স যা আপনার চোখ পরিষ্কার করে।
আবেগের অশ্রু: কখনও কখনও একজন ব্যক্তি আবেগে আপ্লুত হন এবং আবেগ তাঁর উপর এতটাই আধিপত্য বিস্তার করে যে তাঁর চোখ থেকে অশ্রু বেরিয়ে আসে। এই ধরনের টিয়ারকে ইমোশনাল টিয়ারস বলা হয় যা আপনাকে মানসিক আরাম দেয়।
কান্নার প্রয়োজনীয়তা বা উপকার কী?
গবেষণা বলছে, আপনি যখন কাঁদেন, তখন আপনার আবেগ নিয়ন্ত্রণে থাকে, যার কারণে মানসিক চাপ কমে যায়। আপনি যখন কাঁদেন তখন অক্সিটোসিন এবং এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসৃত হয়। এ কারণে শারীরিক ও মানসিক ব্যথা কমে যায়।
নেদারল্যান্ডের একটি সমীক্ষা অনুসারে, কাঁদলে আপনি স্বস্তি অনুভব করেন এবং আপনার মন মেজাজ ভাল থাকে।
চোখের জলে লাইসোজাইম নামে একটি তরল পাওয়া যায়, যার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি আমাদের চোখকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং চোখ পরিষ্কার করে।
কান্না আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে এবং মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দেয়। কান্না শরীরে অক্সিটোসিন এবং এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসরণ করে যা শারীরিক ও মানসিক কষ্ট থেকে মুক্তি দেয়।
অশ্রু নির্গত হওয়ার কারণে চোখ শুকিয়ে যায় না এবং তাদের আর্দ্রতা অটুট থাকে যা দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। যখন একজন ব্যক্তি চোখের পলক ফেলে, তখন বেসাল টিয়ার নির্গত হয়, যা মস্তিষ্ককে শ্লেষ্মা শুকিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
চোখের জলে আইসোজাইম নামক তরল পাওয়া যায় যা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দূর করে চোখ পরিষ্কার করে। বেসাল টিয়ার্সের কারণে আপনার চোখ অনেকদিন সুস্থ থাকে।
কান্নার ফলে অন্য আবেগগুলিও প্রশ্রয় পায়। যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভাল অতএব এখন থেকে যখনই কান্না পাবে, নিজেকে আর থামাবেন না, কারণ কান্না আসলে ভাল জিনিস।