‘একটা স্বপ্নের অকালমৃত্যু ঘটেছে, কেরিয়ারটা পুরো শেষ হয়ে গেলো’, কাঁদতে কাঁদতে বললেন বৈশাখী

বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতার মিল্লি আল আমিন কলেজের অধ্যাপিকা এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা ছিলেন। কিন্তু ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে অভব্যতার অভিযোগ আনার পরই তাঁকে বদলি করা হলে তিনি চক্রান্ত ও হেনস্থার অভিযোগ এনে ইস্তফা দেন।

শিক্ষকতা ছেড়ে দেওয়ার পর বৈশাখীর জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তিনি এখন আর ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন না, নতুন কিছু পড়লে তা তাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন না। এই সবকিছুই তাঁকে খুব কষ্ট দেয়।

বৈশাখী বলেন, “আমি কোনও গডফাদার ছাড়া নিজের যোগ্যতায় ওইখানে পৌঁছেছিলাম। কিন্তু যাদের কারণে আমাকে ছাড়তে হল, তাদেরকে নিয়ে আমার শুধু একটাই প্রশ্ন ছিল, আমি কি এটা ডিজার্ভ করি? এই প্রশ্নটা এখনও আমাকে তাড়া করে বেড়ায়।”

বৈশাখীর কঠিন সময়ে বান্ধবী শোভন তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করে বৈশাখীর পক্ষ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, ববি হাকিমের চাহিদার কারণেই বৈশাখীকে সরানো হয়েছে।

বৈশাখী বলেন, “আমার চাকরিটা কিন্তু কোনও ববি হাকিম বা পার্থ চট্টোপাধ্যায় দেয়নি। তাহলে তাদের ইচ্ছেতে আমার কেরিয়ারটা শেষ হল কেন?”

বৈশাখী এখনও শিক্ষকতা করার স্বপ্ন দেখেন। তিনি বলেন, “আমি আবার ক্লাস নিতে চাই। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সময় কাটাতে চাই। আমি জানি সেটা কঠিন হবে, কিন্তু আমি চেষ্টা করব।”

বৈশাখীর শিক্ষকতার প্রতি ভালোবাসা তার কথায় এবং কাজেই স্পষ্ট। তিনি একজন সৎ এবং যোগ্য শিক্ষক ছিলেন। তিনি তার ছাত্রছাত্রীদের জন্য অনেক কিছু করেছিলেন। তার শিক্ষকতা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব কঠিন ছিল। তিনি এখনও শিক্ষকতা করার স্বপ্ন দেখেন। আশা করি তিনি আবারও শিক্ষকতা করতে পারবেন এবং তার ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *