পাইরেসি রুখতে এবার বড় উদ্যোগ নিলো সরকার, মুনাফা নিয়ে আশাবাদী টলিউড

সিনেমা হল একটি বড় বিনিয়োগ। সিনেমা তৈরি করতে প্রচুর অর্থ এবং শারীরিক পরিশ্রম লাগে। সিনেমা মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই যদি তার পাইরেটেড কপি বাজারে চলে আসে, তাহলে সিনেমার বাণিজ্যিক সাফল্যে অবশ্যই প্রভাব পড়ে। সিনেমার বাণিজ্যিক সাফল্য না থাকলে প্রযোজিত ছবির সমূহ ক্ষতি হয়। আর সেই লোকসান ভীষণভাবে প্রভাবিত করে সমগ্র সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে।

পাইরেসি বন্ধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার সিনেমাটোগ্রাফ (সংশোধনী) বিল, ২০২৩ পাশ করেছে। এই বিল অনুযায়ী, সিনেমা হলে বসে সিনেমার ভিডিয়ো বা রেকর্ডিং করলে কঠোর শাস্তি হবে। সিনেমা হলে রেকর্ডিং করলে তিন বছর পর্যন্ত জেল এবং আর্থিক শাস্তি হিসেবে সিনেমার প্রোডাকশন খরচের ৫ শতাংশ জরিমানা হিসেবে দিতে হবে।

সিনে ইন্ডাস্ট্রি এই আইনকে স্বাগত জানাচ্ছে। অভিনেতা তথা প্রযোজক দেব বললেন, “বহু যুগ ধরেই ছবির পাইরেসি হয়ে আসছে। শুধু সিনেমা নয়, গানেরও পাইরেসি হতো। তবে এখন তো তো সাবস্ক্রাইব করে গান শুনতে হয়। এই রকম আইন হলে অবশ্যই সিনেমার ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভাল খবর।”

অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্র জানালেন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা। প্রথম যখন চ্যাম্প মুক্তি পায়, তখন রুক্মিণী দেখেন ছবিটা কপি হয়ে মোবাইলে এসে গিয়েছে। সেটা দেখে মন খারাপ হয়। রুক্মিণীর মতে, “এবার যদি এই কপি করার জন্য কোনও আইনি দণ্ড নির্ধারিত হয়, সেটা খুবই ভাল।”

অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত মনে করেন, “কঠোর আইন হলে অবশ্যই পাইরেসি বন্ধ হবে। এতে সিনেমার ব্যবসা ভাল হবে। প্রযোজকের মুখেও হাসি ফুটবে। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য এটা অবশ্যই একটা ভাল খবর।” ডিস্ট্রিবিউটর শতদীপ সাহার মতে, “দেরিতে হলেও এত দিন খুবই ভাল উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পাইরেসি তো অপরাধ।”

নতুন প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পাইরেসির নতুন-নতুন ফন্দি। যদিও বড় পর্দায় সিনেমা দেখার মজা পাইরেটেড সিনেমায় নেই। তবে আইন প্রণয়ন অবশ্যই আশার আলো দেখাচ্ছে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *