পাউরুটির মাখন থেকে সোজা হিরে! পিনাট বাটার দিয়ে ল্যাবরেটরিতে অসম্ভবকে সম্ভব করলেন জার্মান বিজ্ঞানী

মাখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অত্যন্ত চেনা ও পরিচিত খাবার। চিকিৎসকের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ছোট থেকে বড়—সবার প্রাতরাশেই মাখনের কদর রয়েছে। অনেকে আবার সাধারণ মাখনের বদলে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে ‘পিনাট বাটার’ বা চিনাবাদামের মাখন খেতে দারুণ পছন্দ করেন। কিন্তু পাউরুটিতে মাখিয়ে খাওয়ার এই মামুলি পিনাট বাটার দিয়ে যে আস্ত হিরে তৈরি করা সম্ভব, তা বোধহয় কেউ কখনও কল্পনাও করতে পারেননি। আর সেই আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব মনে হওয়া কাজকেই বাস্তবে করে দেখিয়েছেন এক জার্মান বিজ্ঞানী। তিনি পিনাট বাটার থেকে খাঁটি মানের হিরে বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন গোটা বিশ্বকে।

হিরে তৈরির পেছনের বিজ্ঞান
বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, পিনাট বাটার হলো কার্বনে ভরপুর একটি সুস্বাদু খাবার। আর এই কার্বনই নির্দিষ্ট পরিমাণ চাপ ও প্রচণ্ড উত্তাপের সংস্পর্শে এলে ধীরে ধীরে হিরের রূপ ধারণ করে। স্বাভাবিকভাবে এই প্রক্রিয়াটি ঘটে পৃথিবীর প্রায় ৮০০ কিলোমিটার গভীরে, যেখানে হিরে তৈরির জন্য উপযুক্ত প্রাকৃতিক উত্তাপ ও চাপ সবসময় বজায় থাকে। ভূগর্ভের সেই একই চরম উত্তাপ ও চাপ বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করে ফেলেন। এরপর পিনাট বাটারকে সেই বিশেষ তাপ ও চাপের মধ্যে রাখা হয়, আর তাতেই মেলে দারুণ সাফল্য। পাউরুটিতে মাখিয়ে খাওয়ার মামুলি পিনাট বাটার বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রূপান্তরিত হয় উন্নত মানের হিরেতে।

এই হিরের ব্যবহার কোথায়?
পিনাট বাটার থেকে হিরে তৈরির এই চাঞ্চল্যকর আবিষ্কার বিশ্বজুড়ে রীতিমতো আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এই পদ্ধতিতে পিনাট বাটার থেকে হিরে উৎপাদনের গতি অত্যন্ত মন্থর। একটি সামান্য আকৃতির হিরের টুকরো তৈরি করতেই সপ্তাহের পর সপ্তাহ সময় লেগে যায়। তাছাড়া, প্রখ্যাত রত্ন ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, ল্যাবরেটরিতে তৈরি এই হিরে গয়না তৈরির পক্ষে খুব একটা উপযুক্ত নয়। তবে গয়না হিসেবে কাজে না লাগলেও, বিভিন্ন ভারী ইন্ডাস্ট্রির বা শিল্পের নানা কাজে এই হিরের বহুল ও সফল ব্যবহার করা যেতেই পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *