বিরাট কড়াকড়ি! ৩০০০ টাকা পেতে কেন ১২ পাতার ফর্ম? আসল কারণ জানালেন অগ্নিমিত্রা পাল

বাংলায় নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। মাসে ৩,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও, এই প্রকল্পের আবেদনপত্রের জটিলতা এবং দীর্ঘ দৈর্ঘ্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ১২ পাতার বিশদ ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে নাজেহাল হচ্ছেন অনেক আবেদনকারী। এমন পরিস্থিতিতে এই কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার নেপথ্যের কারণ জানালেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

কেন এই বিস্তারিত ফর্ম?
আবেদনপত্রের জটিলতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট করেছেন যে, প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা। তিনি বলেন, ‘‘আমরা কোনো অ-ভারতীয়কে এ দেশের জনগণের করের টাকায় চলা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা নিতে দেব না।’’ অর্থাৎ, প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকরাই যাতে এই সরকারি সুবিধার আওতায় আসেন এবং কোনোভাবেই ভুল বা বেআইনি আবেদন যাতে গৃহীত না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই বিস্তারিত তথ্যসংগ্রহ।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিকল্প:
তৃণমূল সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পটিকে বদলে বিজেপি সরকার এই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে এসেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যোগ্যদের অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হবে। বিশেষ দ্রষ্টব্য, যতদিন না নতুন এই প্রকল্পের টাকা সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে, ততদিন আগের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ চালু থাকবে।

আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলি ও কারা বাদ পড়বেন:
আগামী ১ জুন থেকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ পোর্টাল চালু হতে চলেছে। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির মানুষকে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে:

চাকরিজীবী: কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার স্থায়ী কর্মচারী বা পেনশনভোগীরা এই প্রকল্পের যোগ্য নন।

শিক্ষক ও কর্মী: রাজ্য সরকার অনুমোদিত শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মচারী এবং পুর ও পঞ্চায়েত কর্মীরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।

আর্থিক অবস্থা: নিয়মিত করদাতা (Income Tax payer) মহিলারা আবেদন করতে পারবেন না।

অন্যান্য: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তি, মৃত ব্যক্তি বা বর্তমান ঠিকানায় অনুপস্থিত ভোটারদের আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

দীর্ঘ ফর্মের জটিলতায় প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা যাতে বঞ্চিত না হন, তা নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও, রাজ্য সরকার দাবি করেছে যে, অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করেই এই প্রকল্পের সুবিধা বণ্টন করা হবে।