যুদ্ধ থামবে? হরমুজ প্রণালী থেকে পরমাণু কর্মসূচি, ইরান-আমেরিকার গোপন চুক্তির খুঁটিনাটি ফাঁস!

দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে অবশেষে কি শান্তি ফিরছে ইরান-আমেরিকা সম্পর্কে? দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের মাঝে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তি নিয়ে বড়সড় খবরের আভাস মিলছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে। যদিও চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো বিশ্ব।
যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার পথে দুই দেশ
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান ও আমেরিকা ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক বা MoU স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। তবে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও এই চুক্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। খসড়ার ভাষা এবং বিভিন্ন আইনি দিক নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ইরানের দাবি, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়।
চুক্তির মূল স্তম্ভগুলো কী কী?
১. হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা: প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। ইরান ৩০ দিনের মধ্যে সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণ করবে এবং বিনিময়ে আমেরিকা তাদের নৌ-অবরোধ তুলে নেবে।
২. পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা: ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়ার লাগাম টানা ও মজুতকৃত ইউরেনিয়ামের (প্রায় ৯৭০ পাউন্ড) ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে এই ৬০ দিনের আলোচনায়। ইরানকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে, তারা কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটবে না।
৩. নিষেধাজ্ঞা শিথিল: বিদেশে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২০ বিলিয়ন ডলার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানের ওপর আরোপিত দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথ প্রশস্ত হতে পারে।
৪. লেবানন ও হিজবুল্লাহ ইস্যু: চুক্তির শর্তে ইজরায়েল ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিও যুক্ত করা হয়েছে। এই ইস্যুটি নিয়ে সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন ও ইজরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ার খবরও শোনা গেছে।
৫. ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল: এই চুক্তির সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো ইরানের জন্য একটি আন্তর্জাতিক ‘ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ গঠনের প্রস্তাব। এটি কার্যকর হলে ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতির নতুন মোড়
কূটনীতিকদের মতে, চুক্তিটি কার্যকর হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। তবে লিখিত খসড়া এবং বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান থাকার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। ইরান ও আমেরিকার এই ‘উচ্চপর্যায়ের কূটনীতি’ শেষ পর্যন্ত শান্তির পথে পৌঁছাবে, নাকি আবারও কোনো সামরিক উত্তেজনার জন্ম দেবে—সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।