মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হারের বদলা নিতেই খুন? চন্দ্রনাথের মায়ের বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় রাজ্য

লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতে না হতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল রাজ্য রাজনীতি। নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হারের বদলা নিতেই কি প্রাণ দিতে হলো বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে? ১০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অধরা আততায়ী। তবে এরই মধ্যে নিহত নেতার মায়ের বিস্ফোরক অভিযোগে রাজ্য জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

চন্দ্রনাথ খুনের তদন্তে নেমে শনিবার সকাল থেকেই সক্রিয় হয়েছে পুলিশ। তদন্তের রাশ নিজেদের হাতে নিয়েছে সিআইডি। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও সিআইডি আধিকারিকরা ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে আততায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে সূত্রের খবর। তবে তদন্ত চললেও পূর্ব মেদিনীপুরের রথ পরিবারে এখন শুধুই স্বজনহারা আর্তনাদ।

ছেলের মৃত্যুতে কার্যত ভেঙে পড়েছেন চন্দ্রনাথের মা হাসি রানী রথ। শোকবিহ্বল অবস্থাতেই তিনি সরাসরি আঙুল তুলেছেন শাসকদলের দিকে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, গোটা ঘটনাটি তৃণমূলের একটি পরিকল্পিত ছক। হাসি দেবীর দাবি, ভোটের প্রচারে শাসক শিবিরের নেতারা হুঙ্কার দিয়েছিলেন যে চার তারিখের পর কাউকে রেয়াত করা হবে না, সেই হুমকিরই বাস্তব প্রতিফলন এই হত্যাকাণ্ড।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো মমতার হারের প্রসঙ্গ। হাসি রানী দেবী বলেন, “ভবানীপুর হোক বা নন্দীগ্রাম—শুভেন্দুবাবুর প্রতিটি জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল চন্দ্রনাথের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোতেই ও টার্গেট হয়ে গিয়েছিল। সেই হারের প্রতিশোধ নিতেই আমার ছেলেকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।” তিনি আরও জানান, নির্বাচনের পর থেকেই চন্দ্রনাথের ওপর প্রাণঘাতী হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল তাঁদের।

এদিকে তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তবে শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মহলের এই খুনের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আপ্ত সহায়ক খুনের বিচার চেয়ে এখন সরব গোটা জেলা। নতুন সরকারের কাছে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহত নেতার পরিবার।

সিআইডি সূত্রে খবর, এলাকার টাওয়ার ডাম্প বিশ্লেষণ করে ওই সময় কারা ওই অঞ্চলে সক্রিয় ছিল, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি অন্য কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা, সব দিকই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে ভোট পরবর্তী এই রক্তক্ষরণ যে বাংলার রাজনীতিতে আবারও অশান্তির মেঘ ডাকছে, তা বলাই বাহুল্য।