ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত! জাতীয় সঙ্গীতের আগেই গাইতে হবে ‘বন্দে মাতরম’, ৩ বছরের সাজার নিয়ম আনল কেন্দ্র

ভারতের জাতীয় সংহতি ও দেশপ্রেমের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’-কে এবার থেকে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-র সমান মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের বৈঠকে এই যুগান্তকারী প্রস্তাবে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এই বড় পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
অবমাননা করলেই কড়া শাস্তি: সংশোধন হচ্ছে আইন
এখন থেকে রাষ্ট্রীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’-কে অসম্মান বা অবমাননা করা হবে দণ্ডনীয় অপরাধ। আগে ‘ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট’ (জাতীয় সম্মান রক্ষা আইন) অনুযায়ী কেবল জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান ছিল। এবার এই আইনের ৩ নম্বর ধারা সংশোধন করে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি বা অবমাননা করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানার সংস্থান রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নতুন নির্দেশিকা: কী কী নিয়ম মানতে হবে?
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই গানটি গাওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু গাইডলাইন জারি করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রধান বিষয়গুলি হলো:
বাধ্যতামূলক পরিবেশন: সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানে এখন থেকে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাওয়া বা বাজানো বাধ্যতামূলক।
৬টি স্তবকই গাইতে হবে: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা মূল গানের ৬টি স্তবকই এখন থেকে গাইতে হবে। পুরো গানটি গাওয়ার জন্য ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড সময় ধার্য করা হয়েছে।
আগে বাজবে বন্দে মাতরম: কোনো অনুষ্ঠানে যদি জাতীয় সঙ্গীত ও রাষ্ট্রীয় গীত একসঙ্গে বাজানো হয়, তবে ‘বন্দে মাতরম’ আগে বাজাতে হবে।
দাঁড়ানো আবশ্যিক: জাতীয় সঙ্গীতের মতোই এই গানটি বাজার সময় প্রত্যেক শ্রোতাকে সসম্মানে উঠে দাঁড়াতে হবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আবেগ
বন্দে মাতরম গানটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা ছিল। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ভারতের মুক্তি সংগ্রাম— সর্বত্রই এই গানটি ছিল বিপ্লবীদের মূল মন্ত্র। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এই গানের মর্যাদা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক ছিল। কেন্দ্র সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ‘বন্দে মাতরম’ তার প্রাপ্য সাংবিধানিক সুরক্ষাকবচ এবং সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ করল। বিশেষ করে বাংলা জয়ের পরেই মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বঙ্কিমচন্দ্র এবং বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি বিশেষ সম্মান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।