লোকসভা আসন বেড়ে হচ্ছে ৮৫০? ২০২৯ থেকে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে ২৭৩টি আসন!

লোকসভা এবং বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ (নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম) কার্যকর করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্র। তবে এই বিলকে ঘিরে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির মনে আসন কমে যাওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা এবার এক ঝটকায় উড়িয়ে দিল সরকারি সূত্র। জানা গিয়েছে, সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশনের ফলে লোকসভার আসন সংখ্যা এমনভাবে বাড়ানো হবে যাতে কোনো রাজ্যেরই গুরুত্ব না কমে।
একনজরে নতুন প্রস্তাবিত লোকসভা:
-
মোট আসন: ৫৪৩ থেকে বেড়ে হচ্ছে প্রায় ৮৫০টি।
-
রাজ্যগুলির জন্য: ৮১৫টি আসন।
-
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য: ৩৫টি আসন।
-
মহিলা আসন: মোট আসনের ৩৩ শতাংশ (প্রায় ২৭৩টি আসন)।
কেন খুশি হবে দক্ষিণ ভারত? এতদিন আশঙ্কা ছিল যে, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বিন্যাস হলে উত্তর ভারতের আসন বাড়বে আর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণের রাজ্যগুলির আসন কমে যাবে। কিন্তু সরকারি সূত্রের দাবি, আসন সংখ্যা আনুপাতিকভাবে সব রাজ্যে গড়ে ৫০ শতাংশ করে বাড়ানো হবে।
-
উদাহরণস্বরূপ: তামিলনাড়ুতে এখন ৩৯টি আসন আছে। যদি শুধু ২০১১-র জনগণনা ধরা হতো, তবে আসন হতো ৪৯টি। কিন্তু সরকারের নতুন ‘৫০% বৃদ্ধি’র ফর্মুলায় তামিলনাড়ুর আসন সংখ্যা বেড়ে হতে পারে ৫৯টি। অর্থাৎ, কোনো রাজ্যেরই প্রতিনিধিত্ব কমবে না।
দ্রুত কার্যকরের লক্ষ্য: আগামী ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশনে এই সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল আনতে চলেছে কেন্দ্র। সরকার চাইছে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই এই নতুন আসন বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ চালু করে দিতে। এই লক্ষ্যে ২০১১ সালের জনগণনার তথ্য ব্যবহার করেই সীমানা পুনর্নির্ধারণের কাজ দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মহিলাদের ক্ষমতায়নের পাশাপাশি সংসদীয় কাঠামোয় এই আমূল পরিবর্তন ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হতে চলেছে।