রাতভর বৈঠক, কর্মীদের সঙ্গে ডিনার! বাংলা দখলে অমিত শাহের ‘গোপন’ অপারেশন

গতবারের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আর শুধু চপার-সফরে সীমাবদ্ধ থাকছেন না কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা দখলে এক নজিরবিহীন ‘নীরব মিশন’ শুরু করেছেন তিনি। শাহের এই রণকৌশলের মূল স্তম্ভ হলো— বাংলায় রাত্রিবাস এবং গভীর রাত পর্যন্ত বুথস্তরের কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় বৈঠক।

পাঁচ ভাগে ভাগ হলো বাংলা: সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গকে পাঁচটি নির্দিষ্ট বিভাগে বিভক্ত করেছে। অমিত শাহের লক্ষ্য হলো প্রতিটি বিভাগে নিজে গিয়ে রাত কাটানো এবং সরাসরি কর্মীদের থেকে গ্রাউন্ড রিপোর্ট নেওয়া।

  • ইতিমধ্যেই সম্পন্ন: খড়গপুর ও দুর্গাপুর।

  • বাকি রয়েছে: শিলিগুড়ি, বালুরঘাট এবং হুগলি।

খড়গপুর ও দুর্গাপুরের ‘মেগা নাইট’: গত ১০ এপ্রিল খড়গপুরে দিলীপ ঘোষের রোড-শোর পর শুরু হয় শাহের আসল কাজ। রাত ৯টা থেকে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলে বহুস্তরীয় বৈঠক। মেদিনীপুর, হাওড়া ও হুগলি বিভাগের ১০টি লোকসভা কেন্দ্রের কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। একইভাবে ১৩ এপ্রিল দুর্গাপুরে জনসভা ও রোড-শোর পর রাতভর চলে স্ট্র্যাটেজি মিটিং। বর্ধমান ও পুরুলিয়া এলাকার কর্মীদের থেকে খামতিগুলো বুঝে নিয়ে তা সমাধানের নির্দেশ দেন তিনি।

শাহের ‘৩-লেয়ার’ বৈঠকের রহস্য: প্রতিটি রাত্রিবাসে শাহ মূলত তিনটি ধাপে বৈঠক করছেন: ১. প্রথম ধাপ: সাধারণ কর্মী ও বাইরে থেকে আসা ‘পরিযায়ী’ শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময়। ২. দ্বিতীয় ধাপ: জেলা পর্যায়ের মূল নির্বাচনী দলের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক। ৩. তৃতীয় ধাপ: বিভাগীয় কোরের সঙ্গে বসে চূড়ান্ত স্ট্র্যাটেজি তৈরি এবং তা মাঠে নামানোর নির্দেশ।

বীজগণিত বনাম রসায়ন: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার বাংলার লড়াই বেশ জটিল। এসআইআর বা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাতে ভোটের অঙ্ক বা ‘বীজগণিত’ বিজেপির দিকে ঝুঁকলেও, তৃণমূলের সামাজিক প্রকল্প ও জনভিত্তির ‘রসায়ন’ এখনও জোরালো। এই রসায়ন ভাঙতেই শাহ এবার চড়া সুরের চেয়ে নিভৃত সাংগঠনিক কাজে বেশি জোর দিচ্ছেন।

মাঝে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনার জন্য দিল্লি গেলেও, শাহের নজর এখন শিলিগুড়ি ও বালুরঘাটের দিকে। তৃণমূল স্তরের সমস্যাগুলো যাতে কোনো শোরগোল ছাড়াই সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের কানে পৌঁছায়, তার জন্যই শাহের এই অভিনব ‘রাত্রিবাস’ কর্মসূচি।