বিনা কারণে স্বামীর ঘর ছাড়লে মিলবে না কানাকড়িও! খোরপোশ নিয়ে ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের

স্বামীর ঘর ছাড়লেই কি ভরণপোষণ বা খোরপোশ পাওয়া যায়? এই চিরাচরিত ধারণায় বড়সড় ধাক্কা দিল ছত্তিশগড় হাইকোর্ট। সোমবার এক ঐতিহাসিক রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি কোনো স্ত্রী কোনো ‘বৈধ কারণ’ বা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া স্বামীর থেকে আলাদা থাকেন, তবে তিনি ভরণপোষণের ভাতা পাওয়ার অধিকারী হবেন না।

কী ছিল মামলাটি? বিলাসপুরের বাসিন্দা প্রবীণ কুমার ভেদুলার স্ত্রী স্বামীর ঘর ছেড়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন। এরপর তিনি বিলাসপুর আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ভরণপোষণের দাবি জানান। নিম্ন আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দিলে ওই মহিলা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রমেশ সিনহার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয় যে, পারিবারিক আদালতের রায়ে কোনো ভুল নেই।

হাইকোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ: আদালত জানিয়েছে, ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১২৫(৪) ধারা অনুযায়ী, কোনো স্ত্রী যদি যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া আলাদা থাকেন, তবে তিনি স্বামীর কাছ থেকে টাকা দাবি করতে পারেন না। এই মামলায় দেখা গিয়েছে, স্বামী হিন্দু বিবাহ আইনের ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী ‘দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের’ আবেদন করেছিলেন। অর্থাৎ স্বামী তাঁর স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু স্ত্রী কোনো যথাযথ কারণ ছাড়াই ফিরতে অস্বীকার করেন। এই পরিস্থিতিতে খোরপোশ পাওয়ার দাবি আইনত টিকবে না।

পণ ও নির্যাতনের অভিযোগ: সংশ্লিষ্ট মহিলা অভিযোগ করেছিলেন যে, বিয়ের চারদিন পরেই তাঁর কাছে গাড়ি এবং ১০ লক্ষ টাকা পণের দাবি করা হয়। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু পুলিশি রিপোর্ট এবং আদালতের বিচার প্রক্রিয়ায় সেই অভিযোগের সপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি। আদালত মনে করছে, এই পরিস্থিতিতে আলাদা থাকার বিষয়টি আইনত বৈধ নয়। স্বামীর পক্ষে আইনজীবী নেলসন পান্না এবং আশুতোষ মিশ্র মামলাটি সফলভাবে পরিচালনা করেন।