জিমের কসরত আর ডায়েট কি তবে বৃথা? দীর্ঘায়ুর আসল রহস্য ফাঁস করলেন গবেষকরা, ভাগ্য বদলে দিচ্ছে জিন!

আমরা দীর্ঘ জীবন পেতে ভালো খাবার খাই, নিয়মিত শরীরচর্চা করি এবং একটি সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করার চেষ্টা করি। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার আয়ু কতদিন হবে তার অর্ধেকেরও বেশি নির্ভর করছে আপনার বংশগতি বা জিনের ওপর? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীদের দাবি, একজন মানুষের দীর্ঘায়ু হওয়ার ক্ষেত্রে জিনের ভূমিকা প্রায় ৫৫ শতাংশ। আগে ধারণা করা হতো এই হার মাত্র ১০ থেকে ২৫ শতাংশ, কিন্তু নতুন এই তথ্য সারা বিশ্বে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা: ডেনমার্ক ও সুইডেনের যমজ সন্তানদের ওপর ১০০ বছর ধরে চালানো এক দীর্ঘ সমীক্ষায় দেখা গেছে, যদি দুর্ঘটনা বা সংক্রমণজনিত মৃত্যুকে বাদ দেওয়া হয়, তবে মানুষের বার্ধক্য ও আয়ুষ্কালের পেছনে জেনেটিক গঠনই প্রধান ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ, আপনার ডিএনএ-তে যদি দীর্ঘায়ু হওয়ার সংকেত থাকে, তবে আপনি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশিদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকবেন। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা আসার ফলে সংক্রামক রোগের ভয় কমেছে, আর তাই জিনের প্রভাব এখন আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ছে।
ভারতীয় প্রেক্ষাপট ও বিশেষজ্ঞের মত: তবে জিনগত সুবিধা থাকলেই কি আপনি নিশ্চিন্ত? ফোর্টিস সি-ডক-এর চেয়ারম্যান ডাঃ অনুপ মিশ্র সতর্ক করেছেন। তিনি জানান, ভারতের মতো দেশে বায়ুদূষণ, খাদ্যাভ্যাসে ভেজাল, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতার মতো সমস্যাগুলি জিনের পজিটিভ প্রভাবকে নষ্ট করে দিতে পারে। অর্থাৎ, জিন আপনার বাঁচার সর্বোচ্চ সীমা (Upper Limit) নির্ধারণ করে দেয় ঠিকই, কিন্তু সঠিক জীবনধারা ও খাদ্যাভ্যাসই আপনাকে সেই সীমা পর্যন্ত পৌঁছাতে সাহায্য করে। জিন আপনাকে টিকিট দিতে পারে, কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য সুস্থ জীবনযাত্রাই আপনার বাহন।