OMG! রোবট করছে রান্না, চালাচ্ছে রেস্তোরাঁও, খেতে এসে অবাক লোকজন
রেস্তোরাঁয় বসে খাবার অর্ডার করলেন। পনেরো মিনিটেই চলে আসছে টেবিলে। খাবারের যেমন স্বাদ, তেমনই সুগন্ধ। ভাবছেন কোনো দক্ষ বাবুর্চির রান্না খাচ্ছেন। কেমন হবে যদি জানতে পারেন সুস্বাদু এই খাবারের রাঁধুনী কোনও মানুষ নয়, রোবট। কাটাকাটি থেকে খাবার পরিবেশন, সবই করেছে এটি।
সম্প্রতি ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগ্রেবের ‘বটস অ্যান্ড পটস’ রেস্তোরাঁয় রোবটদের করা রান্না ও পরিবেশনা দেখে রীতিমত তাজ্জব বনে গেছেন সেখানে আসা লোকজন।
এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, রেস্তোরাঁটিতে মুখরোচক খাবার প্রস্তুত করছে ৫টি রোবট।
বাস্তবে রূপ দিতে রেস্তোরাঁর মালিকদের সময় লেগেছে প্রায় সাত বছর। প্রায় দশ লাখ ইউরো বিনিয়োগ করে ২০২২ সালে এই রেস্তোরাঁ চালু করেন তারা। ধীরে ধীরে আলোর মুখও দেখছেন তারা।
মোমো, পাস্তা বা পিৎজা! যাই খেতে চান না কেন, পাওয়া যাবে এখানে। প্রায় ৭০ ধরনের পদ প্রস্তুত করছে এসব রোবট। রেস্তোরাঁ মালিকদের মতে, পৃথিবীর একমাত্র রোবট পরিচালিত রেস্তোরাঁ এটি, যেখানে কারও স্পর্শ ছাড়াই তৈরি হচ্ছে মুখরোচক সব খাবার।
রেস্তোরাঁর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হারভোজে বুজাস বলেন, অন্যান্য রেস্তোরাঁয় চিপস, হ্যামবার্গার, পিৎজা ইত্যাদি তৈরি, পরিবেশন বা ডেলিভারির কাজ রোবট দিয়ে করানো হলেও খাবারের পুরো প্লেট সাজাতে মানুষের সম্পৃক্ততা থাকে। কিন্তু এই রেস্তোরাঁয় তা নেই।
রোবট রাধুনির নাম গামাশেফ। আর এসব রোবটকে রান্নায় সহায়তায় তথ্য ইনপুটের কাজটি করে থাকেন রেস্তোরাঁর প্রধান শেফ। রান্নার উপকরণ ও সব কিছু দিয়ে দিলেই ঝটপট খাবার প্রস্তুত করে নিচ্ছে রোবট।
এক একটি রোবট ১৫ মিনিটে চার ধরনের খাবার প্রস্তুত করতে পারে। অর্থাৎ পাঁচটি রোবট মিলে ঘণ্টায় প্রায় ১০০ ধরনের খাবার প্রস্তুত পারে বলে জানান রেস্তোরাঁর কর্তৃপক্ষ। খাবারের স্বাদ নিয়েও প্রশ্ন রাখার কোন অবকাশ নেই। জন্মদিন পালন করতে আসা ১৮ বছরের লভ্র পিটার অ্যান্ড্রিসেক বলেন, ‘খাবারের মান অনেক ভালো, একদম চেটে পুটে খেয়েছি।’