“AI-এর সুফল পেতে ‘কিছু দুর্ঘটনা মেনে নেওয়া উচিত”-পরামর্শ দিলেন অল্টম্যান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড়সড় ও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন ওপেনএআই-এর (OpenAI) প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান। প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন সংস্থার কঠোর বিধিনিষেধের দাবিকে সরাসরি খারিজ করে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এআই-এর যুগান্তকারী সুফল পেতে হলে মানবজাতিকে কিছু ‘অনভিপ্রেত বা খারাপ ঘটনাও মেনে নিতে হবে।’ পলিটিকোর ‘ডিকোডেড’ সাময়িকীকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি।

প্রতিদ্বন্দ্বীদের কড়াকড়ির সঙ্গে দ্বিমত

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উন্নত এআই মডেলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও রাশ টেনে ধরার পক্ষে সওয়াল করে আসছে ওপেনএআই-এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ‘অ্যানথ্রপিক’সহ একাধিক সংস্থা। কিন্তু সেই কঠোর অবস্থানের সঙ্গে প্রকাশ্যেই নিজের দ্বিমত প্রকাশ করেছেন অল্টম্যান। তাঁর মতে, “আমরা সবসময়ই এই মতের পক্ষে যে, এআই প্রযুক্তিকে গণমুখী করতে হবে এবং তা সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দিতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, এ প্রযুক্তির সুফল ও মানুষের নিজেদের স্বাধীনতার স্বার্থেই বিশ্বের উচিত কিছু খারাপ ঘটনাও সহ্য করতে প্রস্তুত থাকা।”

তিনি আরও দাবি করেন, এআই শিল্পে অতিরিক্ত কড়াকড়ি বা কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে তা এই প্রযুক্তির রূপান্তরকারী গতি ও বিকাশকে মারাত্মকভাবে ধীর করে দেবে। কঠোর নিয়মকানুন বা নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে একটি ‘হালকা নিয়ন্ত্রক কাঠামোর’ পক্ষে সওয়াল করেছে ওপেনএআই, যেখানে শীর্ষ এআই কোম্পানিগুলি বাইরের স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নকারীদের যুক্ত করবে।

‘সব খারাপ জিনিস শূন্যে নামানো অসম্ভব’

সাক্ষাৎকারে অল্টম্যান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি এমন কোনো চুক্তিতে সই করব না যেখানে বলা হবে যে, ‘আমরা শতভাগ নিশ্চিত করব যাতে বড় কোনো হ্যাকিং না ঘটে, এই প্রযুক্তির কোনো অপব্যবহার না হয়, কোনো জালিয়াতি না থাকে এবং বাকি সমস্ত খারাপ জিনিস একেবারে শূন্যে নেমে আসে।’ কারণ আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মানুষ এই প্রযুক্তির অপব্যবহারের চেয়ে অনেক বেশি ভালো ও সৃজনশীল কাজ করবে।”

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)-র স্রষ্টা ওপেনএআই প্রধানের মতে, উন্নত এআই সিস্টেমের কারণে বড় ধরনের সম্ভাব্য বিপর্যয়কর ঝুঁকিগুলো অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত, কিন্তু প্রযুক্তির সামগ্রিক সুফলের স্বার্থে মানুষকে কিছু পরিচিত ও সীমিত ঝুঁকি মেনে নিতেই হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চ্যাটজিপিটির সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটিরও বেশি।

নিরাপত্তার কড়াকড়ি বনাম বাস্তব চিত্র

যদিও স্যাম অল্টম্যান তুলনামূলক শিথিল বা ‘হ্যান্ডস-অফ’ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করার কথা বলেছেন, তবুও উন্নত এআই ব্যবস্থার সবচেয়ে খারাপ পরিণতিগুলো থেকে দূরে থাকার পক্ষেও তিনি মত দিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ওপেনএআই-এর বিভিন্ন উন্নত মডেলকে ঘিরে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার বেশ কিছু ঘটনাও সামনে এসেছে। এমনকি নিরাপত্তা মানদণ্ডের শর্ত পুরোপুরি পূরণ করতে না পারায় গত সপ্তাহেই তাদের বহুল প্রতীক্ষিত ‘জিপিটি ৬.২ অ্যাস্ট্রা’ সিস্টেম বাজারে না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

সবমিলিয়ে, এআই নিয়ন্ত্রণের এই নতুন দ্বৈরথ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মহলে এক তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, যা আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যাত্রাপথকে কোন দিকে চালিত করে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *