নতুন ফোনে চার্জার না থাকায় পকেট ফাঁকা হচ্ছে আপনার! ই-বর্জ্যের আড়ালে আসল চালাকিটা কী জানেন?

নতুন শখের স্মার্টফোনটি কিনে বাক্স খুলতেই দেখলেন ভেতরে ফোন আর একটা কেবল রয়েছে, কিন্তু কাজের সেই চার্জারটি গায়েব! বর্তমান সময়ে এই অভিজ্ঞতা নতুন কিছু নয়। অ্যাপল থেকে শুরু করে স্যামসাং গ্যালাক্সি—প্রয় প্রায় সব বড় টেক জায়ান্ট সংস্থাই এখন ফোনের বাক্স থেকে চার্জার বাদ দিয়ে কেবল ইউএসবি-সি ক্যাবল ধরিয়ে দেয়। পরিবেশ রক্ষা এবং ই-বর্জ্য (E-Waste) কমানোর মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে কোম্পানিগুলি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এর নেপথ্যে কি সত্যিই পরিবেশপ্রেম রয়েছে, নাকি লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনো বড় বাণিজ্যিক ফন্দি?
কোম্পানিগুলির যুক্তি হলো, বেশিরভাগ মানুষের বাড়িতেই পুরনো চার্জার বা অ্যাডাপ্টার আগে থেকেই মজুত থাকে। এছাড়া ছোট প্যাকেজিংয়ের কারণে পরিবহন খরচ ও কার্বন নিঃসরণ কমে, যা পরিবেশের জন্য উপকারী। তবে সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (CSE)-এর বিশেষজ্ঞ নিভিৎ কুমার যাদবের মতে, এই সিদ্ধান্তকে শুধুমাত্র পরিবেশ রক্ষার চশমা দিয়ে দেখা মারাত্মক ভুল। এর পেছনে কাজ করছে বাজারের কড়া অর্থনীতি।
ফোনের বাক্স থেকে চার্জার বাদ যাওয়ায় গ্রাহকদের বাধ্য হয়ে আলাদাভাবে ভালো কোম্পানির চার্জার কিনতে হচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বাজারচলতি সস্তা বা লোকাল চার্জার ব্যবহার করলে ফোনের ব্যাটারি ও ডিভাইসের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। অর্থাৎ, ফোনের দাম একই রেখে বা বাড়িয়ে দিয়ে শুধু চার্জারটিকে বক্সের বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে আর্থিক বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাকেই।
ভারতে ক্রমেই বাড়ছে ই-বর্জ্যের পাহাড়: পরিবেশের সুরক্ষার কথা বলা হলেও ভারতে ইলেকট্রনিক कचরা বা ই-বর্জ্যের পরিমাণ দিন দিন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের (CPCB) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে যেখানে প্রায় ১২.৫৪ লক্ষ টন ই-বর্জ্য রেজিস্টার্ড হয়েছিল, তা এক লাফে বেড়ে ২০২৪-২৫ সালে প্রায় ১৩.৯৮ লক্ষ টনে গিয়ে ঠেকেছে। অর্থাৎ, এক বছরের মধ্যেই ই-বর্জ্যের পরিমাণ প্রায় ১১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পুরোনো গ্যাজেট ও চার্জারগুলি সঠিকভাবে রিসাইকেল না করার ফলে পরিবেশের ওপর যে মারাত্মক হুমকি তৈরি হচ্ছে, তা থেকে বাঁচতে কেবল ফোনের বাক্স ছোট করা নয়, বরং ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসে গেছে।