WhatsApp-ইউজারনেম বিতর্ক, সরকারের নির্দেশে পিছু হটল মেটা

হোয়াটসঅ্যাপের আসন্ন ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে মেটার টানাপোড়েন অব্যাহত। বিতর্কিত এই ফিচারটি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে সরকারের কাছে আরও তিন দিন সময় চেয়েছিল মেটা। পিটিআই সূত্রে খবর, সরকারের পক্ষ থেকে সেই আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। পাশাপাশি, মেটা নিশ্চিত করেছে যে, ভারত সরকারের সবুজ সংকেত না পাওয়া পর্যন্ত তারা এই ফিচার ভারতে চালু করবে না।

বিশ্বজুড়ে হোয়াটসঅ্যাপ এমন একটি ফিচার আনতে চলেছে, যেখানে ফোন নম্বর গোপন রেখেই ইউজারনেমের মাধ্যমে অন্য ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। তবে এই ফিচার ঘিরেই কপালে ভাঁজ পড়েছে কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের। সরকারের আশঙ্কা, ফোন নম্বর আড়াল করে চ্যাটিং করার সুযোগ থাকলে অনলাইন জালিয়াতি, স্প্যামিং এবং ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর মতো সাইবার অপরাধের প্রবণতা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। এই আশঙ্কায় গত বুধবার মেটাকে নোটিশ পাঠায় কেন্দ্র।

সরকারের প্রাথমিক নির্দেশ ছিল, শুক্রবারের মধ্যে মেটাকে তাদের লিখিত জবাব জমা দিতে হবে। কিন্তু মেটা সময় চেয়ে আবেদন করায় সরকার তা মেনে নিয়েছে। সূত্রের খবর, সরকারি নোটিশ পাওয়ার পর মেটার একটি প্রতিনিধি দল মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠক করে নিজেদের ফিচারের সুরক্ষাকবচ নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে সরকার তাতে পুরোপুরি আশ্বস্ত নয়। তারা লিখিতভাবে মেটার কাছে এই ফিচারের খুঁটিনাটি ও নিরাপত্তার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে।

নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে মেটা জানিয়েছে, এই নতুন ফিচার ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করবে। সংস্থার দাবি, কোনো ব্যক্তির সঠিক ইউজারনেম না জানলে তাঁকে মেসেজ করা যাবে না, যা অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ বা স্প্যামিং কমাবে। তবে এই ফিচার চালু হলেও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক থাকবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের আপত্তি সত্ত্বেও মেটা এই ফিচার নিয়ে কতটা আপস করে বা সরকার শেষ পর্যন্ত অনুমতি দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় প্রযুক্তি মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *