Chat GPT-তে আসছে ‘লকডাউন মোড’, জেনেনিন কী কাজে লাগবে?

বর্তমান প্রযুক্তির জগতের অবিচ্ছেদ্য নাম ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বা এআই (AI)। অফিসের কাজ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবন—সবক্ষেত্রেই এর দাপট বাড়ছে। কিন্তু এই দ্রুতগতির প্রযুক্তির প্রসারের আড়ালে কি লুকিয়ে আছে কোনো নীরব বিপর্যয়? সম্প্রতি প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন এআই-এর পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
বিদ্যুত ও পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এআই-চালিত ডাটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুত ব্যবহারের পরিমাণ বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হতে পারে। বিশ্বের মোট বিদ্যুত শক্তির একটি বিশাল অংশ ব্যয় হবে এই অবকাঠামোর পেছনে। এর ফলে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন বাড়বে, যা পরোক্ষভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
শুধু বিদ্যুত নয়, এআই সার্ভারগুলোকে ঠান্ডা রাখার জন্য প্রয়োজন হয় বিশাল পরিমাণ পানির। এই শীতলীকরণ ব্যবস্থার জন্য যে পরিমাণ পানির চাহিদা তৈরি হবে, তা বিশ্বের অনেক প্রান্তের পানীয় জলের সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতা শুরু করবে। ফলে যেসব দেশ ইতিমধ্যেই তীব্র পানি সংকটের সম্মুখীন, সেখানে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কী এই ‘জেভন্স প্যারাডক্স’? বিশেষজ্ঞরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যাকে বলা হয় ‘জেভন্স প্যারাডক্স’। সহজ কথায়, কোনো প্রযুক্তি যত বেশি দক্ষ ও সাশ্রয়ী হয়, মানুষ তার ব্যবহার তত বাড়িয়ে দেয়। এআই-এর ক্ষেত্রেও একই আশঙ্কা রয়েছে। প্রযুক্তি যত সহজলভ্য হবে, এর ব্যবহার তত বহুগুণ বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত শক্তি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর আরও বেশি চাপ সৃষ্টি করবে।
বৈষম্যের ঝুঁকি ও পরিবেশগত ভারসাম্য ডাটা সেন্টারগুলো বর্তমানে অল্প কিছু উন্নত দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকায় প্রযুক্তির সুবিধা ও সম্পদ বণ্টনে বড় ধরনের বৈষম্যের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো আরও পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। এছাড়া, বিশাল এই অবকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজন হবে অধিক জমি, পর্যাপ্ত পানি ও বিশাল নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস।
সমাধান কোন পথে? তবে এআই নিজে কোনো সমস্যা নয়, বরং এর দায়িত্বশীল ব্যবহারই হতে পারে একমাত্র পথ। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন:
-
নবায়নযোগ্য জ্বালানি: ডাটা সেন্টারগুলোতে কয়লা বা জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে সৌর বা বায়ুবিদ্যুতের মতো সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো।
-
সাশ্রয়ী প্রযুক্তি: এমন ডাটা সেন্টার নির্মাণ করা যা কম বিদ্যুত ও পানি খরচ করে।
-
টেকসই নীতি: প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কঠোর পরিবেশগত নিয়ম প্রণয়ন করা।
প্রযুক্তি উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে থামানো সম্ভব নয়, কিন্তু তাকে অবশ্যই হতে হবে প্রকৃতির সাথে ভারসাম্যপূর্ণ। দায়িত্বশীল উদ্যোগই পারে এই আধুনিক আশীর্বাদকে পরিবেশের জন্য অভিশাপে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করতে।