AI-এবার প্লেনও চালাবে?-পাইলট ছাড়াই বিমান উড়ল আকাশে!

বিমান শিল্পে এক নজিরবিহীন মাইলফলক স্পর্শ করল মার্কিন স্টার্টআপ সংস্থা ‘মার্লিন ল্যাবস’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) চালিত একটি বিমান সফলভাবে উড়িয়ে তারা প্রমাণ করল যে, ককপিটে পাইলটের অনেক জটিল কাজ এখন অনায়াসেই সামলাতে সক্ষম এই প্রযুক্তি। বিশ্বজুড়ে পাইলটদের ঘাটতি এবং আকাশপথে ক্রমাগত বাড়তে থাকা ট্রাফিক চাপের মুখে দাঁড়িয়ে এই পরীক্ষা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

পরীক্ষামূলক উড়ানে এআই-এর দাপট সাম্প্রতিক এই পরীক্ষামূলক উড়ানে ‘টেস্ট পাইলট’ ম্যাট ডায়মন্ডের ভূমিকায় এক নতুন চমক ছিল। বিমানটিকে উড্ডয়নের পর হাতে নিয়ন্ত্রণ না করে সম্পূর্ণ এআই সিস্টেমের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের মৌখিক অনুমতির পর, এআই সিস্টেমটি বিমানের গতিপথ পরিবর্তন এবং অত্যন্ত জরুরি নির্দেশগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কার্যকর করেছে। সংস্থার দাবি, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বিমান পরিচালনার ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে আনবে।

এনএলপি প্রযুক্তির ব্যবহার মার্লিন ল্যাবস এই সিস্টেমে ‘ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং’ (NLP) প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে, যা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের পাঠানো বার্তাগুলো পাইলটের মতোই দ্রুত বুঝে নিতে পারে। সংস্থার দাবি, তাদের মূল লক্ষ্য পাইলটদের সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং তাঁদের কাজের চাপ কমিয়ে নিরাপত্তার মান বৃদ্ধি করা। মার্কিন পরিবহন সচিব শন ডাফিও এই প্রযুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “এআই মানুষের বিকল্প নয়, বরং মানুষের সহায়তাকারী হিসেবেই কাজ করবে।”

নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক প্রযুক্তির জয়জয়কারের মাঝেও উঠছে প্রশ্ন। আমেরিকার বৃহত্তম পাইলট সংগঠন ‘এয়ার লাইন পাইলট অ্যাসোসিয়েশন’-এর সভাপতি ক্যাপ্টেন জেমস অ্যামব্রোসি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত উন্নতি স্বাগত, কিন্তু তা কখনোই একজন অভিজ্ঞ ও সুপ্রশিক্ষিত পাইলটের বিকল্প হতে পারে না। সংগঠনের দাবি, আকাশপথে যাত্রীদের নিরাপত্তার প্রধান গ্যারান্টি আজও ককপিটে থাকা দুজন মানুষের উপস্থিত বুদ্ধি।

বিমান শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই প্রবর্তন কি আগামী দিনে আকাশপথের নিরাপত্তাকে আরও সুনিশ্চিত করবে, নাকি মানুষের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে—এখন সেটাই দেখার বড় বিষয়।