“বালি চুরির নয়, মানুষের উন্নয়নের প্রকল্প!”-ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানে নয়া ফর্মুলা শুভেন্দুর

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান রূপায়ণে নতুন দিশা দেখাল রাজ্যের নতুন সরকার। পূর্ববর্তী সরকারের ‘একলা চলো’ নীতি থেকে সরে এসে, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে নবান্ন। সোমবার সচিব পর্যায়ের এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন।

নতুন ফর্মুলা ও কেন্দ্রের ভূমিকা মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবিত নতুন ফর্মুলা অনুযায়ী, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে মোট খরচের ৫০ শতাংশ বহন করবে কেন্দ্র এবং বাকি ৫০ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার। রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠার সুফলকে কাজে লাগিয়ে বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্য নিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে সেচ দফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা শুরু করে প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি করতে।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট পূর্ববর্তী সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “গত সরকার মাস্টারপ্ল্যানের নামে কেবল বালি ও মাটি চুরির মাধ্যমে পকেট ভরেছে। ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়ে এই বিশাল প্রকল্প সম্ভব ছিল না।” বিধায়কের দাবি, বাস্তবিকভাবে এই প্রকল্পের জন্য অন্তত চার হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ কয়েক বছর ঘাটালবাসীর দুর্ভোগ নিয়ে খেলা করা হয়েছে। তবে দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে এই বিষয়ে সক্রিয় হয়েছেন, তাতে ঘাটালবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের আশা জেগেছে।

জনদুর্ভোগ ও আগামী লক্ষ্য প্রতি বছর বর্ষায় ঘাটাল ও দাসপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা যেভাবে জলমগ্ন হয়ে পড়ে, তাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই এলাকাকে জলযন্ত্রণা থেকে মুক্ত করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে খরচের বোঝাপড়া ঠিকমতো এগোলে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বাস্তব রূপ নেবে।

এখন দেখার বিষয়, পুরনো প্রকল্পের খোলনলচে বদলে ঠিক কত দ্রুত এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং কত দ্রুত নদীমাতৃক এই এলাকার মানুষ বন্যার অভিশাপ থেকে মুক্তি পান।