AI-এর চাহিদা মেটাতে মহাকাশে ডেটা সেন্টার বসাবে গুগল, নেওয়া হচ্ছে উদ্যোগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং পৃথিবীর পরিবেশগত সম্পদ রক্ষার লক্ষ্যে এবার এক বিপ্লবী পদক্ষেপ নিতে চলেছে মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল (Google)। কোম্পানিটি পৃথিবীর কক্ষপথে ডেটা সেন্টার বসানোর পরিকল্পনা করছে।
এই লক্ষ্যে ২০২৭ সালের গোড়ার দিকে প্রথম পরীক্ষামূলক সরঞ্জাম বা স্যাটেলাইট গুচ্ছ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পাঠাতে চলেছে গুগল।
পরিকল্পনা: ৮০টি সৌরশক্তি চালিত স্যাটেলাইট
গুগলের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, ‘প্রজেক্ট সানক্যাচার’ (Project Suncatcher)-এর অধীনে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। তাঁদের পরিকল্পনা হলো, পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে প্রায় চারশ মাইল উঁচুতে কক্ষপথে প্রায় ৮০টি সৌরশক্তি চালিত স্যাটেলাইটের গুচ্ছ বসানো।
- শক্তিশালী প্রসেসর: এসব স্যাটেলাইটে গুগলের তৈরি বিশেষ ধরনের টিপিইউ (TPU) প্রসেসর থাকবে, যা এআইয়ের উচ্চ চাহিদা পূরণের জন্য তৈরি।
- ৮ গুণ বেশি শক্তি: গবেষণায় বলা হয়েছে, কক্ষপথে থাকা সৌর প্যানেলগুলো পৃথিবীর তুলনায় আট গুণ বেশি শক্তি উৎপাদন করতে পারে।
পরিবেশ ও খরচ সাশ্রয়:
ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ডেটা সেন্টার ঠান্ডা রাখার জন্য প্রচুর পরিমাণে মাটি ও পানির প্রয়োজন হয়। স্যাটেলাইট ব্যবহার করলে এসব প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর প্রভাব কমানো যাবে।
গুগলের গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারের চলমান খরচ পৃথিবীতে থাকা ডেটা সেন্টারের সমান হতে পারে, কারণ মহাকাশ উৎক্ষেপণের খরচ দ্রুত কমছে।
তথ্য আদানপ্রদান হবে লেজার রশ্মিতে:
কক্ষপথে থাকা এসব ডেটা সেন্টার তাদের ফলাফল বা তথ্য পৃথিবীতে পাঠানোর জন্য অপটিক্যাল লিংকের মাধ্যমে যোগাযোগ করবে, যা তথ্য পাঠাতে আলো বা লেজার রশ্মি ব্যবহার করে (ফ্রি-স্পেস অপটিক্যাল লিংক)।
গুগল এই গবেষণামূলক উদ্যোগকে ‘বড় পরিসরে মহাকাশভিত্তিক এআই বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে মহাকাশে রকেট পাঠানোর অর্থ হলো শত শত টন কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমন, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর—এই উদ্বেগও রয়েছে।
গুগল বলেছে, “ভবিষ্যতে এআইনির্ভর কম্পিউটার বড় পরিসরে চালানোর জন্য মহাকাশ হতে পারে সেরা স্থান। এই পদ্ধতি বিশাল পরিসরে কাজের সম্ভাবনা রাখে ও একইসঙ্গে পৃথিবীর সম্পদের ওপরও প্রভাব কমাবে।”